উন্নাও ধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সেঙ্গারের জামিন বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট, বড় ধাক্কা প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের – এবেলা

উন্নাও ধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সেঙ্গারের জামিন বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট, বড় ধাক্কা প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের বহুল আলোচিত উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ বাতিল করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দিল্লির হাইকোর্ট সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা স্থগিত করে তাকে যে জামিন দিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে দিল্লির হাইকোর্টকে এই মামলার মূল আপিলের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই আদেশ জারি করে।

হাইকোর্টের রায়ের ওপর সিবিআইয়ের চ্যালেঞ্জ

নিম্ন আদালত উন্নাও ধর্ষণ মামলায় কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। কিন্তু দিল্লির হাইকোর্ট সেই সাজা স্থগিত রেখে আপিল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেঙ্গারকে জামিন মঞ্জুর করে। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট সাময়িকভাবে হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। এবার চূড়ান্ত শুনানিতে হাইকোর্টের সেই জামিনের নির্দেশকেই পুরোপুরি বাতিল করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি দুই মাসের মধ্যে মূল আপিলের নিষ্পত্তি সম্ভব না হয়, তবে হাইকোর্ট চাইলে সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সাজা স্থগিতের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

আইনি বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব

আজ আদালতে শুনানির সময় সিবিআইয়ের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, আগামী ২৫ তারিখ হাইকোর্টে এই আপিলের শুনানি রয়েছে। অন্যদিকে, সেঙ্গারের আইনজীবী দাবি করেন যে ঘটনার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন না এবং তাঁর মক্কেলকে ‘জনপ্রতিনিধি বা পাবলিক সার্ভেন্ট’ হিসেবে আটকে রাখা হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে সলিসিটর জেনারেল আদালতে প্রশ্ন তোলেন, একজন বিধায়ক আইনত ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ বা লোকসেবক পদবাচ্য কি না। সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর অবস্থানের ফলে অপরাধীদের আইনি ফাঁকফোকর গলে পার পাওয়ার সুযোগ যেমন সংকুচিত হলো, তেমনই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *