উলটপুরাণ! পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে আরএসএস, সমর্থন জানাল ইসলামাবাদ – এবেলা

উলটপুরাণ! পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে আরএসএস, সমর্থন জানাল ইসলামাবাদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্থবির হয়ে থাকা কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে আলোচনার আবহ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রেখেও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখা উচিত। আরএসএস নেতার এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তান একে একটি ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আলোচনা ও প্রতিরোধের ভারসাম্য

দত্তাত্রেয় হোসাবলে সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, পুলওয়ামার মতো উসকানিমূলক হামলার ক্ষেত্রে ভারতকে অবশ্যই কঠোর জবাব দিতে হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আলোচনার দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর মতে, পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী উপযুক্ত প্রত্যুত্তর দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কথা বলার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। ইসলামাবাদের বিদেশ মন্ত্রক এই সুরকে সমর্থন করে জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গঠনমূলক কূটনীতিই একমাত্র পথ।

কেন্দ্রীয় অবস্থান ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

আরএসএস নেতার এই মন্তব্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান অবস্থানের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। মোদি সরকার দীর্ঘদিন ধরেই ‘সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না’—এই নীতিতে অটল রয়েছে। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। হোসাবলের এই নমনীয় অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের মতে, যেখানে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হয়নি, সেখানে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী।

সম্ভাব্য প্রভাব ও ভূ-রাজনীতি

বিশ্লেষকদের মতে, আরএসএস-এর মতো সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনার ইঙ্গিত আসায় সীমান্ত পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। পাকিস্তান এই সুযোগে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের আলোচনার পক্ষে থাকা দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এখনও তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থানে অনড়। এই পাল্টাপাল্টি বিবৃতির ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা সংঘর্ষবিরতি আরও শক্তিশালী হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *