উৎসবের মরশুমে নারীদের রক্ষায় মাঠে ‘দুর্গাবাহিনী’! ইভটিজিং রুখতে পরিবহণমন্ত্রীর চরম হুঁশিয়ারি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই নারী সুরক্ষাকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আসন্ন শারদোৎসবে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুজো মণ্ডপ বা তার আশেপাশে মহিলাদের উদ্দেশ্যে কোনো কটূক্তি, হেনস্থা বা ইভটিজিংয়ের অভিযোগ উঠলে তা বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
সোমবার ব্যারাকপুরের সুকান্ত সদনে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে মন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনকে বেশ কিছু জরুরি নির্দেশ দেন। তিনি জানান, উৎসবের দিনগুলিতে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বড় বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে এবং মহিলাদের সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে বিশেষ ‘দুর্গাবাহিনী’। এর পাশাপাশি মহালয়ার পর থেকে ডিজের দাপট ও শব্দদূষণ রুখতেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন মন্ত্রী। শব্দবিধি অমান্য করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং জানান, পুরো কমিশনারেটের ২৩টি থানা এলাকায় প্রায় ৩ হাজারটি পুজোকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ও ভিড় সামলাতে পুজো উদ্যোক্তাদের পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হালিশহর ও কাঁচরাপাড়ার বড় পুজোগুলির প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পুলিশ কমিশনার।
সুকান্ত সদনের এই প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে ১,১০০টি পুজো কমিটির হাতে সরকারি অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। বাকি পুজো কমিটিগুলির কাছে স্থানীয় থানার মাধ্যমে চেক পৌঁছে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী, ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি এবং জলহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবহণমন্ত্রীর এই বার্তা থেকেই পরিষ্কার যে, উৎসবের আবহেও রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও নারী সুরক্ষার বিষয়ে বিন্দুমাত্র আপস করতে নারাজ।
