‘ঋতব্রত নিজেই বহিষ্কৃত চাটুকার, ওদের কমিটির কোনও বৈধতা নেই!’ তীব্র আক্রমণ কুণালের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: নিউ টাউনের এক বিলাসবহুল হোটেলে কালীঘাট বিরোধী শিবিরের বিধায়ক-কাউন্সিলরদের নিয়ে তৃণমূলের বিকল্প কমিটি গঠন ঘিরে এবার চরম উত্তেজনা ছড়াল ঘাসফুল শিবিরে। দলের নতুন চেয়ারম্যান পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার খবর আসতেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিরোধী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বহিষ্কৃত চাটুকার’ বলে কটাক্ষ করে এই নতুন কমিটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে উড়িয়ে দিলেন তিনি।
উদ্ধত বিদ্রোহ ও নতুন কমিটি
সূত্রের খবর, নিউ টাউনের ওই বৈঠকে বিরোধী শিবিরের ৬০ জন বিধায়ক এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এছাড়া ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষকে সহ-সভাপতি এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মায়ের পিঠে ছুরি মারছে! গর্জে উঠলেন কুণাল
এই কমিটির খবর সামনে আসতেই কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই তৃণমূল। এই কমিটির কোনও আইনি বা রাজনৈতিক বৈধতা নেই।” ঋতব্রতকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, “ঋতব্রত নিজেই দল থেকে বহিষ্কৃত। ও একটা চাটুকার! যে নিজেই বহিষ্কৃত, সে অন্য কাউকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কে? এরা নিজের মায়ের পিঠে ছুরি মারতে পারে।”
‘দিদি মুখ্যমন্ত্রী থাকলে পেছনে পেছনে ঘুরতেন’
বিরোধী শিবিরের নেতাদের ‘সুবিধাবাদী’ অ্যাখ্যা দিয়ে কুণাল দাবি করেন, ছাব্বিশের নির্বাচনে যদি তৃণমূল জিতত, তবে এই নেতারা কখনই মমতাকে ছেড়ে যেতেন না। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকে জিতে অনেকে বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর হয়েছেন। বড় বড় সরকারি পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন ক্ষমতা চলে যেতেই ভোলবদল! ক্ষমতা থাকলে নেত্রীকে প্রণাম করে দল ছাড়তেন, সেই হিম্মত এদের নেই।”
কুণাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা একসময় মমতা ও অভিষেকের চাটুকারিতা করত, তাদের এই বিদ্রোহ আসলে একটা বড় প্রহসন। তবে সময় এর উপযুক্ত উত্তর দেবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নেত্রী থাকবেন।
