একাধিক বিধায়ক থাকলেও তৃণমূল নীরব, সেলিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক কাকলী পুত্র

একাধিক বিধায়ক থাকলেও তৃণমূল নীরব, সেলিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক কাকলী পুত্র

রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ভূয়সী প্রশংসা করলেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। বিধানসভায় বামেদের মাত্র একজন প্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং আন্দোলনের মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি। বিপরীতে, তৃণমূলের বিপুল সংখ্যক বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বৈদ্যনাথ। যা নিয়ে বর্তমানে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ ও নেতৃত্বের সমালোচনা

সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং নির্বাচনী কৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে দলের যুব নেতৃত্বের একটি বড় অংশ সরব হয়েছেন। বৈদ্যনাথের দাবি, মুর্শিদাবাদের ডোমকল আসনে জয়ী হয়ে বামেরা যেখানে বিধানসভায় প্রত্যাবর্তন করেছে এবং রাস্তায় নেমে লড়াই করছে, সেখানে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। সিপিএম রাজ্য সম্পাদককে ‘সাহসী’ আখ্যা দিয়ে তাঁর এই বার্তা প্রকারান্তরে নিজের দলের নেতৃত্বের প্রতিই চরম অনাস্থা বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

রাজনৈতিক প্রভাব ও দলের অস্বস্তি

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকে জেলা স্তরে তৃণমূলের একাধিক নেতা দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যে পাঁচজনকে সাসপেন্ড করা হলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। এই আবহে একজন বর্ষীয়ান সাংসদ পুত্রের এমন মন্তব্য শাসক শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে সাংগঠনিক সমন্বয়ের অভাব এবং নেতৃত্বের প্রতি নিচুতলার কর্মীদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষই বৈদ্যনাথের এই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। এর ফলে আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করা নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *