একা এসেছিলাম, একাই যেতে হবে! হারের যন্ত্রণার মাঝে কলম ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয় এবং ক্ষমতা হারানোর পর এবার এক ভিন্ন আঙ্গিকে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের লেখা একটি বিশেষ কবিতা শেয়ার করে হতাশায় নিমজ্জিত দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন তিনি। ‘ব্রেভ’ বা ‘বাহাদুর’ শিরোনামের এই কবিতায় তিনি শিখিয়েছেন যে, মানুষ এই পৃথিবীতে একাই আসে এবং একাই তাকে বিদায় নিতে হয়। এই দার্শনিক বার্তার আড়ালে আসলে হারের গ্লানি মুছে ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্তরের শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ
ভাইরাল হওয়া এই কবিতায় তৃণমূল নেত্রী বার্তা দিয়েছেন যে, মানুষের আসল শক্তি তার ভেতরেই থাকে। তিনি লিখেছেন, “সাহসী ও শক্তিশালী হও। যদি নিজের ওপর বিশ্বাস থাকে, তবে পৃথিবীর কোনো শক্তি তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।” কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তিনি আরও যোগ করেন যে, কাপুরুষরা সবসময় কাপুরুষই থেকে যায়, কিন্তু শক্তিশালীরাই টিকে থাকে। প্রতিকূলতাকে হাসিমুখে মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়ে তিনি একেই নিজের প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দলের অস্তিত্ব রক্ষায় দার্শনিক লড়াই
নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে বিজেপি ২০৭টি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দলের ভেতরে শুরু হয়েছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যে কোহিনুর মজুমদার, ঋজু দত্ত ও কার্তিক ঘোষের মতো একাধিক মুখপাত্রকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের এই চরম দুর্দিনে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং নিষ্ক্রিয়তা কাটাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দর্শনের আশ্রয় নিচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর তৃণমূল শিবিরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ভোট চুরির অভিযোগ এবং নৈতিক পরাজয়ের ধাক্কা সামলে দলটিকে আবার কীভাবে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিই এখন মমতার প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই কবিতার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সাময়িক পরাজয়ে তিনি দমে যেতে রাজি নন। ভালো কাজের ওপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধরার এই আহ্বান আসলে আগামী দিনে দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত। তবে সাংগঠনিক স্তরে এই আবেগঘন বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
