এক ইঞ্চি জমিও নেয়নি চিন, রাহুল গান্ধীর দাবি উড়িয়ে বড় তথ্য দিলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভানে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। বিশেষ করে ২০২০ সালের লাদাখ সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যখন কেন্দ্রীয় সরকারকে লাগাতার নিশানা করছেন, ঠিক তখনই মুখ খুললেন নারাভানে। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, চিনা ফৌজ ভারতীয় ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে পারেনি। তাঁর এই মন্তব্য একদিকে যেমন বিরোধীদের অভিযোগকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, অন্যদিকে সীমান্ত সুরক্ষায় সেনার অনড় অবস্থানের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
স্মৃতিকথা ও গালওয়ান বিতর্ক
নারাভানের লেখা স্মৃতিকথায় ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ এবং অগ্নিপথ প্রকল্পের নানা অজানা তথ্য উঠে এসেছে বলে খবর। সেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, লাদাখের কৈলাস রেঞ্জে লাল ফৌজ যখন ভারতীয় অবস্থানের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল, তখন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা দোটানায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন সেনাপ্রধান স্পষ্ট করেছেন যে, কৌশলগত বিড়ম্বনা থাকলেও ভারত কোনো ভূখণ্ড হারায়নি। তাঁর মতে, প্রকৃত সত্য বারবার বলার পরেও যদি কেউ তা বিশ্বাস করতে না চায়, তবে তা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।
সেনার অরাজনৈতিক চরিত্র
জাতীয় রাজনীতিতে সেনার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতীয় সেনা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিরক্ষা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং সেনাপ্রধানের সম্মতিক্রমেই সমস্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারলেও, পেশাদার সংস্থা হিসেবে সেনাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
এক ঝলকে
- ২০২০ সালের সামরিক সংঘাতে চিন ভারতের এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে।
- রাহুল গান্ধী সহ বিরোধীদের তোলা ভূখণ্ড দখলের অভিযোগকে তথ্যগতভাবে নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
- গালওয়ান সংঘর্ষের সময় প্রশাসনিক স্তরে কিছুটা দোটানা থাকলেও ভারতীয় সেনা নিজের অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
- ভারতীয় সেনার পেশাদারিত্ব ও অরাজনৈতিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান।
