এক বছর সোনা কেনা বন্ধের আর্জি প্রধানমন্ত্রীর! মাথায় হাত ব্যবসায়ী ও হাজার হাজার কারিগরের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়া সংকটের জেরে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে আগামী এক বছরের জন্য দেশবাসীকে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক আহ্বানে দেশজুড়ে গয়না শিল্পে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মুম্বইয়ের জাভেরি বাজার থেকে কলকাতার বউবাজার— সর্বত্রই এখন দানা বাঁধছে অজানা আশঙ্কা।
বিয়ের মরসুমে মন্দার আশঙ্কা
ভারতের সংস্কৃতিতে সোনা কেবল অলঙ্কার নয়, বরং পারিবারিক সঞ্চয় এবং সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। বিশেষ করে বিয়ের মরসুমে গয়নার চাহিদা থাকে তুঙ্গে। ব্যবসায়ীদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মানসিক দোলাচল তৈরি হতে পারে। যদি বড় অংশের মানুষ সোনা কেনা বন্ধ করে দেন, তবে বার্ষিক ব্যবহার ৮০০ টন থেকে ৫০০ টনে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে শুধু যে বিক্রিতে ভাটা পড়বে তা নয়, বরং এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
বিপাকে কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
গয়না শিল্পের একটি বিশাল অংশ অসংগঠিত ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল। প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের প্রভাবে চাহিদা কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন স্বর্ণকার এবং কারিগরেরা। ক্ষুদ্র জুয়েলার্স এবং কর্মশালা পরিচালকদের দাবি, বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে কর্মীদের বেতন দেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। দীর্ঘস্থায়ী মন্দার আশঙ্কায় এই পেশার সঙ্গে যুক্ত কয়েক লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকা এখন খাদের কিনারায়।
অর্থনৈতিক ভারসাম্য বনাম বাজার পরিস্থিতি
মূলত ক্রমবর্ধমান সোনা আমদানির কারণে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে চাপ বাড়ছে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি (ক্যাড) বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার এই আমদানির চাপ কমিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চাইলেও, অভ্যন্তরীণ বাজারে তার বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। চিনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ হওয়ায়, এই খাতের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি জাতীয় কর্মসংস্থান এবং খুচরো বাজারের ওপর আঘাত হানতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
