এক ভুলেই সর্বনাশ! ৩৮ বছর বয়সেই খোয়ালেন সব দাঁত, বিদেশের সস্তা চিকিৎসার ভয়ানক পরিণতি!

সৌন্দর্য বাড়াতে গিয়ে অনেক সময় মানুষ এমন কিছু হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয় যা জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ব্রিটেনের ৩৮ বছর বয়সী জ্যাকি লিন হরমোনজনিত সমস্যার কারণে দাঁতের ক্ষয় রোগে ভুগছিলেন। সুন্দর হাসির প্রত্যাশায় তিনি বিদেশের মাটিতে কম খরচে উন্নত চিকিৎসার খোঁজ করেন। সেই লক্ষ্যে তিনি তুরস্ক পাড়ি দিয়েছিলেন, কিন্তু এই সিদ্ধান্তই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং তাকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।
ভুল চিকিৎসা ও শারীরিক বিপর্যয়
তুরস্কে চিকিৎসা নিতে গিয়ে জ্যাকি এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। প্রথম দফায় প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করেও আশানুরূপ ফল না পেয়ে তিনি পুনরায় সেখানে যান। অভিযোগ উঠেছে, দন্তচিকিৎসক তাকে সঠিক তথ্য না জানিয়েই ১৫টি রুট ক্যানেল করে ফেলেন। এর ফলে তার মাড়িতে মারাত্মক ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। এই সংক্রমণ রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি জীবনসংকটে রূপ নেয়।
চিকিৎসার নামে সর্বস্বান্ত
সংক্রমণ থেকে প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকরা জ্যাকির মুখের অবশিষ্ট সবকটি দাঁত তুলে ফেলার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। এই দীর্ঘমেয়াদী ভুল চিকিৎসার মাশুল দিতে গিয়ে জ্যাকিকে শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে। বাবার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ১৯ লাখ টাকা ব্যয় করার পর ৩৮ বছর বয়সে তিনি এখন সম্পূর্ণ দন্তহীন। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ ও হাসার ক্ষমতা হারিয়েছেন। সস্তায় মেডিকেল ট্যুরিজমের নামে মানহীন চিকিৎসার ঝুঁকি যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, জ্যাকির ঘটনা এখন তার এক জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত।
এক ঝলকে
- ব্রিটেনের ৩৮ বছর বয়সী জ্যাকি লিন তুরস্কে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অকালেই সব দাঁত হারিয়েছেন।
- চিকিৎসার ত্রুটির কারণে সৃষ্ট ইনফেকশন রক্তে ছড়িয়ে তার প্রাণ সংশয় ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
- প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকরা তার সবকটি দাঁত উপড়ে ফেলতে বাধ্য হন, যা তাকে শারীরিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে।
- চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে তিনি প্রায় ১৯ লাখ টাকা খুইয়েছেন এবং এখন স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে অক্ষম।
