এক মাসের মধ্যে ভোটাধিকার ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। এর মাঝেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে বড়সড় আশ্বাস দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নদিয়ার করিমপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে ভুক্তভোগীদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও অভিষেকের কড়া বার্তা

করিমপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও প্রতিপক্ষ বিজেপিকে নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক মানুষের সমস্ত নথিপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও ষড়যন্ত্র করে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪ মে নতুন সরকার গঠনের পর এক মাসের মধ্যেই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

অভিষেক স্পষ্ট করে জানান, এই বিষয়টি দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে না থাকলেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনায় এটি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তাঁর মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই।

এনআরসি ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ

জনসভা থেকে এনআরসি ইস্যু টেনে এনে ভোটারদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন অভিষেক। বিজেপির সমালোচনা করে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন:

  • বিজেপি এনআরসি এবং ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয় দেখালেও তৃণমূল তা বাংলায় কার্যকর হতে দেয়নি।
  • কেন্দ্রীয় সরকার টাকা বন্ধ করে বাংলার মানুষকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
  • নোটবন্দি, লকডাউন এবং রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ হিসেবে সাধারণ মানুষকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
  • তাঁর ভাষ্যে, “বিজেপি মানে ডিটেনশন, আর তৃণমূল মানে নো টেনশন।”

রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণা অত্যন্ত সুকৌশলী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া অনেক সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সংবেদনশীল ইস্যু। এই আশ্বাস একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তেমনই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ের পথ প্রশস্ত করছে। নির্বাচনী ইস্তাহারে না থাকা সত্ত্বেও “মনের ইস্তাহারে” এই দাবি রাখা জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলে, তা ৪ মে ফলাফলেই স্পষ্ট হবে।

এক ঝলকে

  • প্রধান প্রতিশ্রুতি: সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে বাদ পড়া ভোটারদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
  • টার্গেট: ষড়যন্ত্র করে নাম বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।
  • মূল স্লোগান: বিজেপি মানে ডিটেনশন, তৃণমূল মানে নো টেনশন।
  • ইস্তাহার প্রসঙ্গ: ইস্তাহারে লিখিতভাবে না থাকলেও এটি তৃণমূলের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
  • আহ্বান: কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির জবাব ব্যালট বাক্সে দেওয়ার আবেদন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *