এক রাজ্যে দুই রূপ! উত্তরবঙ্গে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, গরমে পুড়ছে দক্ষিণবঙ্গ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একই রাজ্যে আবহাওয়ার দুই চরম রূপ প্রত্যক্ষ করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। একদিকে যখন তীব্র ভ্যাপসা গরমে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দুই বঙ্গের আবহাওয়ায় আকাশ-পাতাল তফাত বজায় থাকবে।
দক্ষিণবঙ্গে পারদ বৃদ্ধির পূর্বাভাস, উধাও বৃষ্টির সম্ভাবনা
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে সোমবার সকাল থেকেই আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও, আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরম আকার ধারণ করেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এখনই এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। উল্টে আগামী তিন দিনে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গড়ে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পরবর্তী চার দিনও তাপমাত্রা একই রকম থাকবে। চলতি সপ্তাহে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা না থাকায় এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরমের দাপট আরও বাড়বে। মাঝেসাঝে কোথাও কোথাও হালকা বা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও তা আবহাওয়া ঠান্ডা করার জন্য যথেষ্ট হবে না।
উত্তরবঙ্গে কালবৈশাখীর ভ্রূকুটি ও হলুদ সতর্কতা
দক্ষিণবঙ্গের ঠিক বিপরীত ছবি দেখা যাবে উত্তরবঙ্গে। সেখানে তাপমাত্রা এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা কমলেও পাহাড়ি জেলাগুলোতে ধেয়ে আসছে তীব্র ঝড়-বৃষ্টি। আবহাওয়া দফতর আগামী মঙ্গলবার, ২ জুন উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা— দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করেছে। এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং স্থানীয় বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের কারণেই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে, যা কালবৈশাখীর রূপ নিচ্ছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গে সাময়িক স্বস্তি মিললেও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত ও চাষবাসের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর ঘাটতি এবং বৃষ্টি কমে যাওয়ার কারণেই পারদ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, যা জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাহিদা একলাফে বাড়িয়ে দেবে।
