“এটা জয় শ্রীরাম বলার জায়গা নয়!” কেন হঠাৎ মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু? – এবেলা

“এটা জয় শ্রীরাম বলার জায়গা নয়!” কেন হঠাৎ মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই এক অনন্য নজির গড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজভবন থেকে সরাসরি তিনি পৌঁছে যান বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈত্রিক আবাসস্থল জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। তবে সেখানে গিয়ে তিনি কেবল শ্রদ্ধা নিবেদনই করেননি, বরং দলীয় কর্মীদের অতি-উৎসাহে লাগাম টেনে এক কড়া বার্তাও দিয়েছেন।

রাজনীতি নয়, প্রাধান্য পেল সংস্কৃতি

ঠাকুরবাড়ি প্রাঙ্গণে শুভেন্দু অধিকারী প্রবেশ করতেই উপস্থিত বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে শুরু করেন। সমর্থকদের এই রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া তৎক্ষণাৎ বন্ধ করার নির্দেশ দেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটি ‘জয় শ্রীরাম’ বলার জায়গা নয়। এখানে কেবল কবিগুরুর জয়গান হবে। এখন আর রাজনৈতিক লড়াইয়ের সময় নেই; মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি এখন সবার।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, নির্বাচন শেষ হয়েছে এবং এখন সময় রাজ্যের হারানো শিক্ষা ও সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারের।

কাব্যিক চেতনা ও আগামীর অঙ্গীকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এই সফরে শুভেন্দু অধিকারীকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ দেখায়। কবির মূর্তির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে মাথা নত করে শ্রদ্ধা জানান তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতিকে বিশ্বকবির আদর্শ ও চেতনার পথেই চলতে হবে। আজকের দিনটি সেই শুভ সূচনার অঙ্গীকার।”

উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং প্রথা মেনে ‘বিচিত্রা ভবন’ পরিদর্শন করেন। সেখানে সাধারণ চা ও নিমকি খেয়ে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথের পরেই ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে ধর্মীয় স্লোগান থামিয়ে দেওয়ার এই পদক্ষেপ আদতে বিরোধী শিবিরের সমালোচনার জবাব এবং বৃহত্তর বাঙালি সত্তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এক সুপরিকল্পিত কৌশল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *