এনসিপিআই দলে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা, দিল্লির রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন – এবেলা

এনসিপিআই দলে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা, দিল্লির রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় (এনসিপিআই) যোগ দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা অবশেষে কেটেছে। এনসিপিআই নেতৃত্ব তাঁদের দলে নিতে সম্পূর্ণ সম্মত হয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন লোকসভার বিদায়ী বা বর্তমান প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সম্প্রতি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ নিজেদের এনসিপিআই-এর সদস্য হিসেবে দাবি করার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। এবার সেই জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, তাঁরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন এবং এনসিপিআই তাঁদের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে অত্যন্ত আগ্রহী।

এনডিএ শিবিরে যোগদানের প্রস্তুতি ও দলবদলের কারণ

সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদ্রোহী শিবিরের এই নেত্রী জানান, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে এনডিএ (NDA) জোটের শরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ এবং নীতিগত বিরোধের জেরেই এই বড়সড় ভাঙন ধরেছে। নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং কেন্দ্রীয় শাসক শিবিরের ছত্রছায়ায় আসতেই বিদ্রোহী সাংসদরা ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত, অথচ এতদিন প্রচারের আড়ালে থাকা এনসিপিআই দলটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। ইতিমধ্যেই স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়ে তাঁরা লোকসভায় আলাদা ব্লকে বসার এবং এনডিএ-কে সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ

তৃণমূলের এই বিদ্রোহী শিবিরে সাংসদদের সংখ্যা আরও বাড়তে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি অনুযায়ী, বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে খুব দ্রুত ২২ হতে পারে। তবে এই দলবদলের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে চলা বিধায়কদের দলবদলের জল্পনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, রাজ্যের বিধায়কদের কর্মসূচি ও গোষ্ঠী সম্পূর্ণ আলাদা। এই দলবদলের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি লোকসভায় কমবে, ঠিক তেমনই এনডিএ শিবির সংসদের নিম্নকক্ষে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাবে, যা আগামী দিনে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *