এবার কি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে বাংলা! শুভেন্দু সরকারের কাছে বিশেষ প্রস্তাব বিজেপির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক নতুন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবার উত্তরপ্রদেশ ও আসামের পথ অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন বা ‘দুই সন্তান নীতি’ আসতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর এই প্রস্তাবের পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অলিন্দে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
অনুপ্রবেশের চাপ ও জনবিন্যাসের উদ্বেগ
ভারতের ‘ন্যাশনাল কমিশন অন পপুলেশন-এর টেকনিক্যাল গ্রুপের’ সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৬ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। জনসংখ্যার নিরিখে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও বিহারের পরেই স্থান বাংলার। বিজেপির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীদের কারণে রাজ্যের সামগ্রিক জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। অনুপ্রবেশ রুখতে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির মতো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর মতে, একদিকে অনুপ্রবেশ ও অন্যদিকে উদ্বাস্তুর চাপ, এর ওপর পরিবার পিছু সাত-আটটি করে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া দরকার। ফলে রাজ্যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক করার দাবি তুলেছেন তিনি।
আসাম ও উত্তরপ্রদেশের মডেল অনুসরণের ইঙ্গিত
যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রস্তাবে সিলমোহর দেয়, তবে আসাম ও উত্তরপ্রদেশের মতো কড়া নিয়ম কার্যকর হতে পারে বাংলায়। আসামে ইতিমধ্যেই ‘টু-চাইল্ড পলিসি’ বা দুই সন্তান নীতি চালু রয়েছে, যেখানে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে কেউ সরকারি চাকরির আবেদন করতে পারেন না। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের খসড়া বিল অনুযায়ী, দুই সন্তান নীতি অমান্য করলে সরকারি চাকরি যেমন মিলবে না, তেমনই কর্মরতদের পদোন্নতিও আটকে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় এই নীতি বাস্তবায়িত হলে তা জনবিস্ফোরণ রোধে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে, তবে এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে সুদূরপ্রসারী। এখন দেখার, এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার আগামী দিনে কোনো খসড়া বিল বা আইন আনার পথে হাঁটে কি না।
