এবার শিক্ষাঙ্গণকে রাজনীতিমুক্ত করার ঐতিহাসিক পথে বাংলা, গভর্নিং বডিতে থাকবে না রাজনৈতিক প্রতিনিধি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা শিক্ষাঙ্গণের রাজনৈতিক দাপাদাপি বন্ধ করতে এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বাম জমানার ‘অনিলায়ন’ এবং পরবর্তীকালে ‘তৃণমূলায়ন’-এর জেরে কলুষিত হওয়া শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার থেকে রাজ্যের সরকার পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কলেজগুলির গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদে আর কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা বিধায়ক থাকতে পারবেন না।
রাজনৈতিক দাপটের অবসান ও নতুন কাঠামো
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, কলেজের পরিচালন সমিতিতে স্থানীয় বিধায়ক বা শাসকদলের প্রতিনিধি থাকার কারণে শিক্ষাঙ্গনে সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঘটত। ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কর্মী নিয়োগ এবং কলেজের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পেত। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রনেতাদের দাপট এবং পরীক্ষা বন্ধ রাখার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও সামনে এসেছে। এই ঘুঘুর বাসা ভাঙতেই রাজ্য সরকার আগের পরিচালনা পর্ষদগুলি ভেঙে দেওয়ার পর এবার সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে তা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন ফিরে পাবে এবং শিক্ষাক্ষেত্র থেকে রাজনীতিকে সম্পূর্ণ আলাদা করা সম্ভব হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মেধার মূল্যায়ন সঠিকভাব হবে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরবে। শাসকদলের দাপট না থাকায় সাধারণ পড়ুয়াদের হেনস্তার শিকার হতে হবে না। তবে শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, শুধু গভর্নিং বডির কাঠামো বদল করলেই শিক্ষাঙ্গণ পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত হবে না, এর জন্য ছাত্র সংসদগুলির ভূমিকাও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, স্কুল-কলেজকে সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত করা হবে এবং সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের পর বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার হবে বলেই সাধারণ মানুষ আশাবাদী।
