এমএমআর টিকা নিয়ে তোলপাড় আমেরিকা: বাজারে না থাকা ভ্যাকসিন কেন বাধ্যতামূলক করতে চাইছে হোয়াইট হাউস? – এবেলা

এমএমআর টিকা নিয়ে তোলপাড় আমেরিকা: বাজারে না থাকা ভ্যাকসিন কেন বাধ্যতামূলক করতে চাইছে হোয়াইট হাউস? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে এক নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র সম্প্রতি এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা ঘিরে চিকিৎসা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে— শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এমএমআর (MMR) টিকা আর একসঙ্গে দেওয়া যাবে না, বরং তিনটি রোগের জন্য তিনটি আলাদা ডোজে দিতে হবে।

এমএমআর (MMR) টিকা আসলে কী?

এমএমআর হলো একটি সংমিশ্রণ (কম্বিনেশন) ভ্যাকসিন, যা শিশুদের তিনটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ— হাম (Measles), মাম্পস (Mumps) এবং রুবেলা (Rubella) থেকে রক্ষা করে। গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে এই একটি টিকাই ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যাতে শিশুদের বারবার ইনজেকশনের কষ্ট পেতে না হয়। মার্কিন স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, সাধারণত ১২-১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ৪-৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।

হোয়াইট হাউসের নতুন সিদ্ধান্তে কী পরিবর্তন আসছে?

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আদেশে শিশুদের বাধ্যতামূলক টিকার সংখ্যা ১৭ থেকে কমিয়ে ১১ করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এক বছরের শিশুদের একদিনে একাধিক টিকা না দিয়ে তা পাঁচটি ধাপে দেওয়া উচিত। এর অংশ হিসেবেই ঐতিহ্যবাহী এমএমআর টিকা ভেঙে তিনটি পৃথক টিকায় রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা?

আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স এবং খোদ রিপাবলিকান সিনেটর তথা চিকিৎসক বিল ক্যাসিডি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। চিকিৎসকদের উদ্বেগের প্রধান কারণগুলো হলো:

  1. টিকার অপ্রতুলতা: বর্তমানে মার্কিন বাজারে হাম, মাম্পস বা রুবেলার একক কোনো পৃথক টিকা পাওয়া যায় না। ফলে যে টিকা বাজারেই নেই, তা শিশুদের দেওয়ার নির্দেশকে অবাস্তব বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
  2. প্রস্তুতির দীর্ঘ সময়: পৃথক ও নিরাপদ ভ্যাকসিন তৈরি করে বাজারে আনতে অন্তত ১০ বছর লেগে যেতে পারে।
  3. ভুল তথ্যের প্রচার: টিকার সঙ্গে অটিজমের যে তথাকথিত সম্পর্কের দোহাই দেওয়া হচ্ছে, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তা বহু আগেই ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।

যে প্রতিষেধক বাজারে মিলছেই না, তা পৃথকভাবে দেওয়ার এমন সরকারি সিদ্ধান্ত মার্কিন স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *