এশিয়ান গেমসে ভারতের ঐতিহাসিক জয়! ৫৬ বছরের খরা কাটিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন সর্বেশ কুশারে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 28, 202611:58 am
এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে তৈরি হলো এক নতুন ইতিহাস! দীর্ঘ ৫৬ বছরের খরা কাটিয়ে পুরুষদের হাই জাম্পে ভারতকে রৌপ্য পদক উপহার দিলেন সর্বেশ কুশারে। তাঁর এই ঐতিহাসিক জয়ে উল্লাসে মেতেছে সমগ্র দেশ।
এর আগে ১৯৭০ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে ভীম সিং এই ইভেন্টে শেষবার ভারতরে জন্য ব্রোঞ্জ পদক এনেছিলেন। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক পর আবার হাই জাম্পের পোডিয়ামে উড়ল তেরঙ্গা।
রোববার ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সর্বেশ ২.১০ মিটার থেকে শুরু করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ২.২৫ মিটার উচ্চতা পার করেন। তবে ২.২৮ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করার তিনবারের চেষ্টায় সামান্য ব্যর্থ হন তিনি। চাইনিজ তাইপের চাও-হুয়ান ফু-ও ২.২৫ মিটার লাফ দিলেও কাউন্টব্যাক নিয়মে স্বর্ণপদক পান, আর সর্বেশের ঝুলিতে আসে ঐতিহাসিক রূপো। দক্ষিণ কোরিয়ার সাংহিওক উ ২.২২ মিটার অতিক্রম করে ব্রোঞ্জ জিতেন।
সর্বেশের এই জয় কেবল একটি পদক পাওয়ার গল্প নয়, এটি এক চরম প্রতিশোধ ও জেদের গল্প। ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ২.২৬ মিটার লাফিয়েও একটি টেকনিক্যাল ভুলের কারণে চতুর্থ হয়ে পদক হাতছাড়া হয়েছিল তাঁর। সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে ২০২৬-এর নাগোয়া এশিয়ান গেমসে রূপো জিতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন এই অ্যাথলিট।
মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার দেবরগাঁও গ্রামের এক অতি সাধারণ পেঁয়াজ চাষির ঘরে ১৯৯৫ সালে জন্ম সর্বেশের। শৈশবে আধুনিক ল্যান্ডিং ম্যাট কিংবা জিমের সুবিধা ছিল না। ছেলের গায়ে যাতে চোট না লাগে, সেজন্য খামারের বর্জ্য, ভুট্টার খোসা আর তুলা দিয়ে নিজের হাতে ল্যান্ডিং পিট বানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। বাবার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই লড়াই।
পরবর্তীতে নিজের যোগ্যতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন সর্বেশ। বর্তমানে তিনি ১০১তম ফিল্ড রেজিমেন্টে নায়েব সুবেদার পদে কর্মরত। বাবার শেখানো লড়াইয়ের মানসিকতা ও সেনাবাহিনীর অনুশাসনকে সঙ্গী করেই আজ এশিয়ার মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন এই বীর জোয়ান।
