ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আসামে: ৩ জেলায় খিলানজিয়া ছাড়া জমি কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা, হিমন্ত সরকারের বড় পদক্ষেপ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আসামের আদিবাসী তথা ‘খিলানজিয়া’ জনসমষ্টির জমি ও অস্তিত্ব রক্ষায় এক ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিল মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার। গত চার দশকের মধ্যে রাজ্যে এটিই সবচেয়ে বড় মাপের ভূমি সংস্কারের পদক্ষেপ। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের অত্যন্ত স্পর্শকাতর তিনটি জেলা—গোয়ালপাড়া, ধুবড়ি এবং বরপেটায় এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।
নতুন আইনি ব্যবস্থার মূল বিষয়: সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, উল্লিখিত তিনটি জেলায় আসামের আদি বাসিন্দা বা খিলানজিয়া সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কেউ জমি কেনাবেচা করতে পারবেন না। বহিরাগত বা অ-আদিবাসী শক্তির হাত থেকে স্থানীয়দের ভিটেমাটি সুরক্ষিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। রাজ্যের নিজস্ব পরিচয় ও ভূমি সুরক্ষার লড়াইয়ে এটি একটি বড় মাইলফলক।
জনগণনা ও আসামীয়া ভাষার মেলবন্ধন: জমি সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ২০২৭ সালের আসন্ন আদমশুমারিকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় দশকের পর দশক ধরে বসবাসকারী অন্যান্য রাজ্যের মানুষদের কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, যেন তাঁরা গৃহগণনার সময় নিজেদের মাতৃভাষা হিসেবে ‘আসামীয়া’ ভাষাকে নিবন্ধিত করেন।
গুয়াহাটির লোক সেবা ভবনে এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আসামীয়া ভাষা হলো রাজ্যের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগকারী মূল সেতুবন্ধন। তাঁর মতে, “আমি যদি বড়ো, মিসিং বা রাভা সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে কথা বলি, তবে আসামীয়া ভাষাতেই বলব।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই আবেদনটি বরাক উপত্যকা বা নিজস্ব ভাষা থাকা আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য নয়; বরং নিম্ন আসামের যেসব অঞ্চলে নানা ভাষাভাষী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন, তাঁদের জন্যই এই আহ্বান।
কেন এই বিশেষ পদক্ষেপ? মুখ্যমন্ত্রীর মতে, জোরহাটের মতো যেসব জেলায় আসামীয়া ভাষীর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, সেখানে এই আইনের প্রয়োজন নেই। তবে ধুবড়ি, বরপেটা ও গোয়ালপাড়ার মতো সংবেদনশীল এলাকায় জমি ও আঞ্চলিক পরিচয় ধরে রাখা বর্তমান সময়ের দাবি। অবশ্য তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আদমশুমারিতে আসামীয়াকে মাতৃভাষা হিসেবে নথিভুক্ত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, আসাম সরকারের এই জোড়া সিদ্ধান্ত রাজ্যের ভূমি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক মোড়।
