ওমরের কুর্সি বাঁচাতে আসরে ফারুক, নেপথ্যে কি বিজেপির বড় চাল?

এবেলা ডেস্কঃ
জম্মু-কাশ্মীরে ওমর সরকারের সংকট: ২৫ বিধায়কের বিদ্রোহ সামলাতে ময়দানে ফারুক আবদুল্লা
শ্রীনগর: দলীয় বিধায়কদের নজিরবিহীন অসন্তোষের মুখে পড়ে বড়সড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সরকার বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত আসরে নামতে হয়েছে ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে।
সূত্রের খবর, দলের প্রায় ২৫ জন বিধায়ক ওমর আবদুল্লার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের দাবি, অবিলম্বে উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানিকে (নাগির সৌগমী) পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। এছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে মন্ত্রিত্ব আঁকড়ে থাকা ব্যক্তিদের বদলে নতুন মুখ আনা এবং দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর দাবি তুলেছেন তাঁরা।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় শুক্রবার শ্রীনগরে নিজের বাসভবনে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে এক দীর্ঘ বৈঠক করেন ফারুক আবদুল্লা। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও উপস্থিত ছিলেন। বিধায়কদের অভিযোগ শোনার পর ফারুক তাঁদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “ন্যাশনাল কনফারেন্স কখনও ভাঙবে না। আমি বিধায়কদের কথা শুনেছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।”
তবে ফারুকের আশ্বাসেও পুরোপুরি আশ্বস্ত নন বিদ্রোহীরা। বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম মুখ নাজির গুরেজি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে তাঁরা বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, বিজেপির এক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার মদতেই এই বিদ্রোহ দানা বেঁধেছে। জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে এই ২৫ বিধায়ক অন্তত পাঁচটি গোপন বৈঠক করেছেন।
উল্লেখ্য, ৯৫ আসন বিশিষ্ট জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৪৬টি আসন। বর্তমানে এনসি জোটের হাতে ৫৩টি আসন রয়েছে। কিন্তু ২৫ জন বিধায়ক ইস্তফা দিলে জোটের শক্তি কমে ২৮-এ নেমে আসবে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। এদিকে, সাংসদ আগা রুহুল্লাহ মেহদির পদত্যাগের পর সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এমতাবস্থায়, বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সন্তুষ্ট করতে না পারলে ওমর আবদুল্লার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতন কার্যত সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
