ওমান সাগরে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু, ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বমঞ্চে সুর চড়ালেন মোদী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-বাঁ শহরে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সমান্তরালে এক হাই-প্রোফাইল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর দুই রাষ্ট্রনেতার এই প্রথম সাক্ষাৎটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওমান সাগরে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কার্যত দায় এড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
মার্কিন হামলা ও ট্রাম্পের ভূমিকা
সম্প্রতি ওমান উপসাগরে মার্কিন সেন্টকমের বাহিনী ‘সেট্টেবেল্লো’ সহ তিনটি জাহাজে সামরিক হামলা চালায়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, ওই জাহাজগুলি ইরানের ওপর জারি করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছিল। এই হামলায় আদিত্য শর্মা, শিবানন্দ চৌরাসিয়া এবং পি সুরেশ নামের তিন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মৃত নাবিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাবেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়ে মন্তব্য করেন যে, এটি অত্যন্ত কঠিন পেশা এবং এটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার কথা বললেও, হামলার দায় বা সুনির্দিষ্ট দুঃখপ্রকাশ এড়িয়ে যান।
সুরক্ষা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতের পক্ষ থেকে তীব্র সুর চড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্রাম্পের উপস্থিতিতেই তিনি অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং হরমুজ প্রণালীতে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। ইরানের সঙ্গে যেকোনো মার্কিন সমঝোতায় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীর জলপথ বাণিজ্য বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় গোটা বিশ্বের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে এবং বন্ধু দেশগুলোতে জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
