ককরোচ জনতা পার্টির ঝড়, যোগ দিতে চান মহুয়া ও কীর্তি আজাদ – এবেলা

ককরোচ জনতা পার্টির ঝড়, যোগ দিতে চান মহুয়া ও কীর্তি আজাদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে আত্মপ্রকাশ করল এক নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যার নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। ‘Secular, Socialist, Democratic, Lazy’— এই অদ্ভুত ও ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান নিয়ে বাজারে আসা এই মঞ্চটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। মাত্র দু’দিনের মধ্যে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন ৪০ হাজারেরও বেশি সদস্য। তবে সবচেয়ে বেশি শোরগোল পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই হেভিওয়েট সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদের এই দলের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে।

তৃণমূল সাংসদদের যোগদানের ইচ্ছা ও রাজনৈতিক তরজা

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সিজেপি-র একটি পোস্ট শেয়ার করে রসিকতার ছলে এই দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পাল্টা জবাবে সিজেপি-র পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ বলে অভিহিত করা হয়। অন্যদিকে, বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ এই দলে যোগদানের যোগ্যতা জানতে চাইলে সিজেপি-র পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জেতাই তাঁর জন্য যথেষ্ট যোগ্যতা। দুই সাংসদের এমন প্রতিক্রিয়া এই নতুন প্ল্যাটফর্মটিকে রাতারাতি জাতীয় স্তরের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

নামকরণের উৎস এবং যুব সমাজের ক্ষোভ

দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, যিনি পূর্বে আম আদমি পার্টির ডিজিটাল প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুব সমাজের রাজনৈতিক হতাশা, বেকারত্ব এবং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এই ‘অসন্তুষ্ট যুব সমাজের কণ্ঠস্বর’ তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই ‘ককরোচ’ বা আরশোলা নামের উৎপত্তি বলে জানা গেছে। সিজেপি-র সদস্য হওয়ার যোগ্যতার মধ্যেও রয়েছে ব্যঙ্গের ছোঁয়া— যেমন বেকার বা অলস হওয়া এবং সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা। তবে ব্যঙ্গের আড়ালে এই দলটির পাঁচ দফা ইস্তাহারে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের রাজ্যসভায় না পাঠানো, সংসদ ও মন্ত্রিসভায় মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতার মতো একাধিক গুরুতর দাবিও তোলা হয়েছে।

ডিজিটাল প্রতিবাদের এই নতুন ধরণটি ভারতের আগামী রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *