কচুরিপানার নিচে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না, পুলিশের হাতে পাকড়াও পলাতক আসামী

কেরালার চেরানাল্লুরে চুরির মামলায় অভিযুক্ত এক যুবককে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত রাসেলের (২০) এই দুঃসাহসিক পলায়ন এবং পরবর্তীতে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। গত রবিবার চেরানাল্লুর পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর তিন দিন পর তাকে এডাপল্লি খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে খুঁজে পায় পুলিশ।
সিনেমার কায়দায় পলায়ন ও অভিযান
পলাতক রাসেলকে ধরতে বুধবার দুপুরে এডাপল্লি রেলওয়ে স্টেশনের কাছে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা অভিযান শুরু করে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তিনি এক পুলিশ সদস্যের হাতে কামড় দিয়ে এবং ধাক্কা মেরে রেললাইন ধরে দৌড়ে পালান। পথিমধ্যে একটি দোকান থেকে জামা চুরি করে নিজের পোশাক পরিবর্তন করে ছদ্মবেশ ধারণের চেষ্টা করেন তিনি। এরপর কাদা ও ঘন কচুরিপানায় ভরা খালের ভেতর ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখেন।
কচুরিপানা থেকে গ্রেপ্তার
প্রায় দেড় ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর তল্লাশির পর পুলিশ খালের মাঝখানে কচুরিপানার স্তূপের ভেতর রাসেলের অবস্থান শনাক্ত করে। সিটি পুলিশ কমিশনারের বিশেষ স্কোয়াড এবং স্ট্রাইকার টিমের সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদাযুক্ত জলতে নেমে তাকে ধরে আনেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের সহযোগী সুরজকে আগেই গ্রেপ্তার করা হলেও রাসেল বারবার কৌশল পরিবর্তন করে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এই ঘটনার ফলে আসামিদের আদালতে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় এবং পুলিশের তৎপরতায় দীর্ঘ সময়ের নাটকের অবসান ঘটলেও, অপরাধীর এমন মারমুখী আচরণ ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
এক ঝলকে
পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বিত অভিযানে তিন দিন পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
চুরির মামলায় অভিযুক্ত রাসেলকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার সময় তিনি পালিয়ে যান।
পলায়নের পর নিজেকে বাঁচাতে পুলিশের ওপর হামলা এবং ছদ্মবেশ ধারণের চেষ্টা করেন।
এডাপল্লি খালের ঘন কচুরিপানার নিচে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন অভিযুক্ত।
