“কমিশন কি একপক্ষের দ্বারা পরিচালিত?” প্রতীক মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নজিরবিহীন তিরস্কার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 28, 20267:52 pm
কলকাতা: ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর প্রতীক মামলার শুনানি শেষ হলেও রায় স্থগিত রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার এই মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ।
ঠিক কোন আইনি ক্ষমতার বলে এতদিন আইএসএফ-এর ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীকটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে দিয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলে আদালত। শুনানির সময়ে কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিচারপতি রাও মন্তব্য করেন, “হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষের এই ধরনের পদক্ষেপে রীতিমতো উদ্বিগ্ন। নির্বাচন কমিশনের মতো কর্তৃপক্ষের কাজ এমন স্বচ্ছ হওয়া উচিত, যাতে পরবর্তীতে আদালতের হস্তক্ষেপ বা প্রশ্নের মুখে না পড়তে হয়।”
কমিশনের যুক্তি খারিজ করে বিচারপতি আরও বলেন, “আগে ব্যবহার করেছে বলেই প্রতীকটি দাবি করা আইএসএফ-এর আইনি অধিকার না-ও হতে পারে, কিন্তু সেই প্রত্যাশা করাটা স্বাভাবিক। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের আবেদনে আপনারা সেই প্রতীক দিয়েছেন বোঝা গেল, কিন্তু আইএসএফ-এর আবেদন খারিজের আইনি নথিপত্র কোথায়? কোন নিয়মে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সে বিষয়ে কমিশনের ব্যাখ্যা একেবারেই সন্তোষজনক নয়।”
আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ, কমিশন আগে থেকেই একটি অনিয়ম করে ফেলেছে এবং এখন তা ঢাকার চেষ্টা করছে। যদি নির্বাচন কমিশন কোনো একটি বিশেষ পক্ষের নির্দেশ বা প্রভাবে কাজ করে, তবে এই ধরনের ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক।
এর জবাবে কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন যে, প্রতীক বরাদ্দের সম্পূর্ণ অধিকার একমাত্র নির্বাচন কমিশনেরই রয়েছে, কোনো দলের নয়। কমিশনের এই যুক্তির জবাবে আইএসএফ-এর প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “কমিশনের অধিকার থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত কখনোই একপেশে বা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে না।”
