কয়লা থেকেই তৈরি হবে গ্যাস! জ্বালানি সংকট মেটাতে মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটকে ঘনীভূত করেছে। অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার ফলে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলায় এবার দেশীয় সম্পদের ওপর জোর দিচ্ছে ভারত সরকার। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৩৭,৫০ \ কোটি টাকার ‘কোল গ্যাসিফিকেশন’ বা কয়লা গ্যাসীকরণ ইনসেনটিভ স্কিম অনুমোদন করেছে। মূলত আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই বিশাল বাজেটের প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
কয়লা থেকে গ্যাস তৈরির নতুন দিগন্ত
সাধারণত শক্তি উৎপাদনের জন্য কয়লা সরাসরি পোড়ানো হয়, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তবে কোল গ্যাসিফিকেশন পদ্ধতিতে কয়লাকে সরাসরি না পুড়িয়ে একটি বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘সিন্থেটিক গ্যাস’ বা ‘সিনগ্যাস’-এ রূপান্তরিত করা হয়। এই গ্যাস বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি ইউরিয়া, মিথানল এবং বিভিন্ন রাসায়নিক সার তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কয়লার প্রথাগত ব্যবহারের তুলনায় কার্বন নিঃসরণের মাত্রা অনেক কম হয়, যা পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক।
অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও পরিবেশগত সুরক্ষা
এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ভারতের অর্থনীতির ওপর বহুমুখী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারত বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সার বিদেশ থেকে আমদানি করে। দেশীয় কয়লা থেকে সিন্থেটিক প্রাকৃতিক গ্যাস (SNG) এবং মিথানল উৎপাদন সম্ভব হলে আমদানির প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে আসবে, যার ফলে সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
পরিবেশগত দিক থেকেও এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। সরাসরি কয়লা পোড়ালে সালফার ডাই অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক গ্যাস বাতাসে মেশে। কিন্তু গ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সিনগ্যাস ব্যবহারের আগেই অশুদ্ধিগুলো ফিল্টার করে আলাদা করা হয়, ফলে বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে পেট্রোলে মিথানল মেশানো—সর্বত্র এই প্রযুক্তির ব্যবহার ভারতকে এক টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
