কর্নাটকে যবনিকাপাত সিদ্দারামাইয়া যুগের, বুধেই কি মসনদে ডিকে শিবকুমার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কর্নাটকের রাজনীতিতে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি বদলের চূড়ান্ত তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তিন বছর দায়িত্ব সামলানোর পর পদত্যাগ করেছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীন সূত্র অনুযায়ী, আগামী ৩ জুন, বুধবারই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন শিবকুমার। তাঁর সঙ্গে আরও প্রায় ১০ জন মন্ত্রী শপথ নেবেন বলে জানা গেছে, যার মধ্যে অন্যতম চর্চিত নাম সিদ্দারামাইয়ার পুত্র যতীন্দ্র সিদ্দারামাইয়া।
ক্ষমতার হাতবদল ও নতুন সমীকরণ
বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক প্রাতঃরাশ বৈঠকে সিদ্দারামাইয়া নিজের ইস্তফার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডিকে শিবকুমারের নাম অনুমোদন করেন। এরপরই রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বৈরথ ভুলে এই বৈঠকে শিবকুমারকে সিদ্দারামাইয়ার পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেও দেখা যায়। মূলত হাইকমান্ডের পূর্বনির্ধারিত সূত্র মেনেই এই ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
পুত্রকে মন্ত্রী করার দাবি ও সিদ্দারামাইয়ার ভবিষ্যৎ
মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও কর্নাটকের রাজনীতিতে নিজের প্রভাব ধরে রাখতে মরিয়া সিদ্দারামাইয়া। দিল্লিতে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যসভায় যাওয়ার কোনো ইচ্ছে তাঁর নেই, বরং রাজ্যের রাজনীতিতেই তিনি সক্রিয় থাকবেন। এই বৈঠকেই তিনি নিজের পুত্র যতীন্দ্রকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিবকুমার এতদিন যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প বা জলসম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলি সামলাচ্ছিলেন, সেগুলিই যতীন্দ্রর হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সিদ্দারামাইয়া।
প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডিকে শিবকুমারের অভিষেক কর্নাটক কংগ্রেসে নতুন শক্তির সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সিদ্দারামাইয়া শিবিরের দাবিদাওয়া এবং তাঁর পুত্রের মন্ত্রিত্ব পাওয়া না-পাওয়ার ওপর মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নির্ভর করছে। আগামী ৩ জুন প্রথম দফায় আট থেকে দশজন মন্ত্রী শপথ নিলেও, মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ সম্প্রসারণ এখনই হচ্ছে না। আগামী ১৮ জুন রাজ্যসভা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই বাকি মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত ও দপ্তর বণ্টন করা হবে বলে জানা গেছে।
