কলকাতায় চালু হচ্ছে চালকহীন মেট্রো! চালক ছাড়া কীভাবে চলবে ট্রেন? জেনে নিন গোপন প্রযুক্তি – এবেলা

কলকাতায় চালু হচ্ছে চালকহীন মেট্রো! চালক ছাড়া কীভাবে চলবে ট্রেন? জেনে নিন গোপন প্রযুক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: তিলোত্তমার মুকুটে জুড়তে চলেছে নতুন পালক। খুব শীঘ্রই কলকাতার ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডোরে (গ্রিন লাইন) ছুটবে চালকহীন অত্যাধুনিক মেট্রো। সম্প্রতি ‘কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি’ (CRS)-এর কাছ থেকে এই পরিষেবার ছাড়পত্র মিলেছে। এর ফলে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।

চালকের বদলে ট্রেন চালাবে কে? অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, চালক না থাকলে ট্রেন নিয়ন্ত্রণ করবে কে? মূলত, এই মেট্রো সম্পূর্ণ ‘কমিউনিকেশন-বেসড ট্রেন কন্ট্রোল’ (CBTC) প্রযুক্তি এবং ‘অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন’ (ATO) ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ট্রেনটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হবে শহরের প্রান্তে থাকা একটি অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার (OCC) থেকে।

কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?

  • CBTC (মস্তিষ্ক): এটি রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে ট্রেনের সঠিক অবস্থান এবং গতিবেগ সারাক্ষণ ট্র্যাকিং করবে।
  • OCC (নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র): এখান থেকেই অপারেটররা ট্রেনের রুট ও গতির ওপর নজর রাখেন।
  • ATO (স্বয়ংক্রিয় চালক): ট্রেনের ভেতরে থাকা এই কম্পিউটার ব্যবস্থাটি নিখুঁতভাবে ট্রেন চালানো, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের সঠিক জায়গায় ট্রেন থামানোর কাজ করবে।

যাত্রীদের জন্য কী কী সুবিধা? ১. সময় বাঁচবে: দুটি ট্রেনের মধ্যে ব্যবধান ৯০ থেকে ১০০ সেকেন্ডে নেমে আসবে, ফলে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমবে। ২. নিরাপত্তা: মানব ভুল (Human Error) হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। ট্রেনের সামনে কোনো বাধা থাকলে ৫০ মিটার দূর থেকেই ট্রেন তা শনাক্ত করে ব্রেক কষতে সক্ষম। ৩. প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর: প্রতিটি স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর থাকবে, যা ট্রেন সম্পূর্ণ থামার পরই খুলবে, ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে।

জরুরি পরিস্থিতি? চালকবিহীন মেট্রো হলেও নিরাপত্তার খাতিরে ট্রেনে সবসময় একজন দক্ষ ট্রেন অ্যাটেনডেন্ট উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা এবং সরাসরি অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও থাকবে। কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কন্ট্রোল রুম থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হবে।

কলকাতা মেট্রোর এই নতুন যাত্রাপথ প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং আধুনিকতার এক অনন্য নিদর্শন হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *