কলকাতায় বাড়তে পারে ওয়ার্ড, পুরসভায় ডিলিমিটেশনের বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা পুরসভা এলাকার ওয়ার্ডগুলোর পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে এক বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কলকাতা পুরসভায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা এবং বুথের পরিমাণের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য দূর করতেই এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে প্রশাসন। রাজ্য সরকারের সুপারিশে রাজ্য নির্বাচন কমিশন আইনানুগভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে থাকে। ফলে আগামী দিনে কলকাতার প্রশাসনিক মানচিত্রে বড়সড় বদল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আয়তনের বৈষম্য ও পরিবর্তনের কারণ
কলকাতার ওয়ার্ডগুলোর পুনর্বিন্যাসের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভোটার সংখ্যা ও বুথ বিন্যাসের ব্যাপক অসঙ্গতি। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পূর্বের কাউন্সিলর জীবনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জানান, ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের মতো কোনো কোনো ওয়ার্ডে বুথ সংখ্যা ৪৯টি, আবার অনেক ওয়ার্ডে এই সংখ্যা মাত্র ১৫ থেকে ২০টি। এছাড়া ৮২ নম্বরের মতো কিছু ওয়ার্ড আয়তনে বিশাল। তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পল ও স্বপন দাশগুপ্তের মতো কলকাতার রাজনীতির প্রবীণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই ডিলিমিটেশনের এই যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হয়।
নির্বাচন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
কলকাতা পুরসভায় বর্তমানে চলা অচলাবস্থা দূর করতে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পুর বোর্ডের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিলিমিটেশনের এই ইঙ্গিত এমন এক সময়ে এল যখন পুরসভার এই কর্মসূচিতে বর্তমান বিরোধী দল তৃণমূলের বহু শীর্ষস্থানীয় কাউন্সিলর, বিধায়ক ও প্রাক্তন মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম উপস্থিত ছিলেন। ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণ হলে ভোটারদের বিন্যাস পুরোপুরি বদলে যাবে, যা আগামী পুরভোটে রাজনৈতিক দলগুলোর রণকৌশল নির্ধারণে এবং আসন বিন্যাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরগামী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
