কলকাতায় মেসি বিড়ম্বনায় বিস্ফোরক শতদ্রু, এবার কি খুলবে মেসিকাণ্ডের ফাইল

কলকাতায় মেসি বিড়ম্বনায় বিস্ফোরক শতদ্রু, এবার কি খুলবে মেসিকাণ্ডের ফাইল

দীর্ঘ ১৪ বছর পর কলকাতায় লিওনেল মেসির আগমন ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত তিক্ততায় পর্যবসিত হয়। সল্টলেক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল সম্রাটকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা এবং পরবর্তীতে আয়োজক শতদ্রু দত্তর গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়ামহল ছিল উত্তাল। সম্প্রতি জেল থেকে মুক্তি পেয়েই এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলেছেন শতদ্রু দত্ত, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

শতদ্রু দত্তর দাবি অনুযায়ী, সেদিনের বিশৃঙ্খলার মূলে ছিল রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে প্রচুর টিকিট ও বিশেষ অ্যাক্সেস কার্ড দাবি করেছিলেন। শতদ্রুর বয়ান অনুযায়ী, অরূপ বিশ্বাস দাবি করেছিলেন যে মাঠটি তাঁর এক্তিয়ারভুক্ত, তাই সেখানে প্রবেশের জন্য তাঁর কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। মাঠে ঢুকে মেসির ব্যক্তিগত পরিসর লঙ্ঘন করে ছবি তোলা এবং স্বজনপোষণ করার ফলেই বিশ্বজয়ী এই ফুটবলার বিরক্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন বলে দাবি করা হচ্ছে। শতদ্রু নিজেকে এই ঘটনার ‘বলির পাঁঠা’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তদন্তের পথে নয়া সরকার ও প্রভাব

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এই ‘মেসিকাণ্ড’ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে ঘটা এই অপ্রীতিকর ঘটনার ফাইল পুনরায় খোলা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই তদন্তের মাধ্যমে সেদিনের বিশৃঙ্খলা, স্টেডিয়ামের সম্পত্তি নষ্ট এবং আয়োজকদের ওপর চাপের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১১ সালে মেসির প্রথম কলকাতা সফর ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয়। তার বিপরীতে ২০২৫-এর এই ঘটনা বিশ্ব ফুটবলের দরবারে কলকাতার ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করেছে। একদিকে যখন তদন্তের আশ্বাস মিলছে, তখন হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেনা সাধারণ সমর্থকরা তাঁদের অর্থের ফেরত পাবেন কি না, সেই প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে এই ফাইল খোলার সিদ্ধান্ত ফুটবল সমর্থকদের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *