কলকাতা দেখার শেষ আবদার কেড়ে নিল প্রাণ, তারাতলা বিপর্যয়ে মামা-ভাগ্নের করুণ পরিণতি! – এবেলা

কলকাতা দেখার শেষ আবদার কেড়ে নিল প্রাণ, তারাতলা বিপর্যয়ে মামা-ভাগ্নের করুণ পরিণতি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন বিপর্যয়ের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। গত বুধবারের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন গুরুতর জখম শ্রমিক খালেক সর্দার। এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে দু’দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর শনিবার দুপুরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর দশম শ্রেণীর পড়ুয়া ভাগ্নে সাহিল সর্দারের। শহর দেখার এক বুক স্বপ্ন নিয়ে মামার হাত ধরে বহুতলের ছাদে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না তাঁদের।

আকাঙ্ক্ষার শহরেই চিরতরে স্তব্ধ জীবন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা সাহিল গরমের ছুটিতে মামাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। উঁচু বহুতলের ছাদ থেকে কলকাতাকে দেখার তীব্র ইচ্ছা ছিল তার। ভাগ্নের সেই আবদার মেটাতেই বুধবার তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ গোডাউনে নিয়ে গিয়েছিলেন খালেক সর্দার, যেখানে তিনি প্লাম্বারের কাজ করতেন। কিন্তু ছাদে ওঠার পরপরই আচমকা ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়ে তাঁদের ওপর। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় কিশোর সাহিল। এই ঘটনায় খালেক সর্দারের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন। করোনা মহামারীর সময় মুম্বই থেকে ফিরে কোনোমতে এই কাজ জোগাড় করেছিলেন তিনি। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

সুরক্ষার অভাব ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

তারাতলার এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের নেপথ্যে নির্মীয়মাণ কাঠামোর দুর্বলতা এবং নির্মাণস্থলের অপর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থাকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে। আচমকা চাঙড় ভেঙে পড়ার মতো ঘটনা নির্মাণকাজের তদারকি ও গুণগত মান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই দুর্ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, কারণ প্রাণ হারানো এবং জখম হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারের সদস্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমানে আহতদের চিকিৎসার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। শনিবার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের দেখতে যান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন শ্রমমন্ত্রী অনাদি সাহু। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সুস্থ হয়ে উঠলেও এখনও দু’জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নির্মাণক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা বিধি না মানার এই খামতি একাধিক পরিবারের ভবিষ্যৎকে চিরতরে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *