কল্যাণের উপর হামলাকে নাটক বলে কটাক্ষ দিলীপের, চণ্ডীতলার ঘটনা ঘিরে চড়ল রাজনৈতিক পারদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রবিবার শ্রীরামপুরের সাংসদের মাটিতে লুটিয়ে পড়ার ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘নাটক’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে।
হামলার অভিযোগ বনাম নাটকের পাল্টাদাবি
রবিবার চণ্ডীতলায় সোনারপুরের ঘটনার প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কর্মীদের নিয়ে থানায় ডেপুটেশন দিতে যাওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে কিছু মানুষ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই গণ্ডগোলের মধ্যেই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাংসদ এবং মাথায় ভেজা রুমাল দিয়ে অভিযোগ করেন যে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ একে একটি সাজানো ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, কেউ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধাক্কা বা হামলা করেনি, পুরো বিষয়টিই আসলে প্রচার পাওয়ার চেষ্টা। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সাংসদকে নিজের আচরণ সংযত করার পরামর্শও দেন।
রাজনৈতিক সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দলগত আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে তাদের শীর্ষ নেতাদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণের অভিযোগ তুলে সুর চড়াচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপি এটিকে রাজ্যের শাসক দলের অভ্যন্তরীণ লাইমলাইট পাওয়ার লড়াই বা সাজানো নাটক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
রাজনীতিবিদদের মতে, এই ধরণের ঘটনা এবং তার পরবর্তী কড়া রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের এই সংঘাতের ফলে স্থানীয় স্তরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে।
