কানপুরে বাবার হাতে দুই যমজ মেয়ের নৃশংস হত্যা, স্তম্ভিত জনপদ

কানপুরে বাবার হাতে দুই যমজ মেয়ের নৃশংস হত্যা, স্তম্ভিত জনপদ

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক সাবেক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের হাতে তার ১১ বছর বয়সী দুই যমজ মেয়ের খুনের ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত বাবা শশী রঞ্জন মিশ্র নিজেই পুলিশে ফোন করে আত্মসমর্পণের আগে ঘুমন্ত সন্তানদের প্রথমে শ্বাসরোধ ও পরে গলা কেটে হত্যা করেন। পাশের ঘরেই নিজের ছোট ছেলের সাথে ঘুমিয়ে থাকা মা রেশমা মিশ্র ভোরে পুলিশ আসার আগে পর্যন্ত টেরই পাননি যে তার সাজানো সংসারটি এক রাতের ব্যবধানে তছনছ হয়ে গিয়েছে।

হতাশা ও সন্দেহ প্রবণতার নেতিবাচক প্রভাব

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত শশী রঞ্জন দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্বের কারণে চরম আর্থিক অনটন ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। বৈবাহিক জীবনে অশান্তির পাশাপাশি স্ত্রীর প্রতি তীব্র সন্দেহ প্রবণতা থেকে তিনি সারা ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসিয়েছিলেন। নিজের মায়ের মৃত্যুর পর থেকে তিনি ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ঘটনার দিন রাতে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সন্তানদের অচেতন করে এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

আইনি পদক্ষেপ ও ভবিষ্যতের শঙ্কা

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক বাবা জানিয়েছেন যে, মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই তিনি তাদের ‘মুক্ত’ করতে চেয়েছিলেন। তবে তদন্তকারীরা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখছেন। ফরেনসিক দল এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাত আড়াইটা নাগাদও শিশুরা জীবিত ছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি বেকারত্ব এবং মানসিক অসুস্থতার চরম পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা একটি সাজানো পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • কানপুরে ১১ বছর বয়সী দুই যমজ মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন তাদেরই জন্মদাতা বাবা।
  • আর্থিক অনটন, বেকারত্ব ও স্ত্রীর প্রতি চরম সন্দেহ থেকে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা।
  • শিশুদের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করার পর গলা কেটে খুন করা হয়।
  • ঘাতক পিতা শশী রঞ্জন মিশ্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, চলছে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *