‘কামদুনির মতো দায় এড়াব না, অপরাধীদের রেহাই নেই: বারুইপুর কাণ্ডে কড়া বার্তা শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বারুইপুর: বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং পরবর্তী গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়েছে। শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে নবনির্মিত পুলিশ আউটপোস্টের উদ্বোধন করতে এসে নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, এই ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া হবে না।
ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে সুপরিকল্পিতভাবে নাম-পরিচয় জেনেই খুন করা হয়েছে। এর পেছনে ভোট হারানো কিছু শক্তির হাত রয়েছে, যারা বাংলাকে অশান্ত করতে চাইছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
পরিবারের পাশে সরকার ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেন। এছাড়া, ইন্দ্রজিতের বড় ভাইকে বারুইপুর পুলিশের অধীনে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি প্রদান করা হয়েছে এবং তাঁকে এই নতুন আউটপোস্টেই নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে মাত্র দুদিনের মধ্যেই পরিবারের ভাঙা বাড়ি মেরামত এবং বাবার বার্ধক্য ভাতার বন্দোবস্তও করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও তদন্ত নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে চারজন অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এসটিএফ (STF) শাখার তৎপরতায় সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় তাদের জালে তোলা সম্ভব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর তিনি নিজে নজর রাখছেন।
মাদক ও বেআইনি মদের ঠেক উচ্ছেদে কড়া নির্দেশ এলাকায় অপরাধ দমনে মাদক এবং বেআইনি মদের ঠেক নির্মূল করতে পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, স্টেশন হোক বা গ্রাম—কোথাও মাদক বা বেআইনি মদের কারবার সহ্য করা হবে না। এছাড়া, এলাকায় আতঙ্কিত ব্যবসায়ীদের দোকান খোলার অভয় দিয়ে নির্যাতিতা ও নিহত ইন্দ্রজিতের বাড়িতে স্থায়ী পুলিশি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কামদুনি কাণ্ডের ছায়া ও সরকারের দৃঢ় অবস্থান পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই সরকার কোনো ঘটনাকে ‘সাজানো’, ‘লাভ অ্যাফেয়ার্স’ বা ‘ছোট ঘটনা’ বলে দায় এড়াবে না।” কামদুনির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, আগের সরকারের অবহেলার কারণে কামদুনির পরিবার যে আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা খেয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার তাদের সবরকম আইনি ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে।
