কারাগারের চার দেয়াল থেকে ছাদনাতলা, বন্দি ও জেলকর্মীর নজিরবিহীন প্রেমকাহিনি

কারাগারের কঠোর শৃঙ্খল আর চার দেয়ালের মাঝে জন্ম নেওয়া এক ব্যতিক্রমী ভালোবাসা অবশেষে পূর্ণতা পেয়েছে বিয়ের মণ্ডপে। খুনের মামলায় ১৪ বছর জেল খাটা ধর্মেন্দ্র সিং এবং সেই জেলেরই সহকারী সুপার ফিরোজা খাতুন সামাজিক নানা বাধা উপেক্ষা করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। গত ৫ মে মধ্যপ্রদেশের ছতরপুরে তাঁদের এই বিয়ে সম্পন্ন হয়, যা বর্তমানে গোটা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরিচয় থেকে প্রণয়
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৭ সালে, যখন পুরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান কৃষ্ণ দত্ত দীক্ষিত হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন সাজা পান ধর্মেন্দ্র সিং। তাঁকে রাখা হয়েছিল সাতনা সেন্ট্রাল জেলে। সেই সময় সেখানে সহকারী জেল সুপার ও ‘ওয়ারেন্ট ইন-চার্জ’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন ফিরোজা খাতুন। দাপ্তরিক কাজের সূত্রেই তাঁদের মধ্যে নিয়মিত আলাপ ও পরিচয় গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে সেই সাধারণ পরিচয় গভীর বন্ধুত্ব এবং পরবর্তীতে প্রেমে রূপ নেয়। জেলের ভেতরেই তাঁরা একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক বাধা ও পরিণয়
দীর্ঘ ১৪ বছর সাজা ভোগের পর চার বছর আগে ধর্মেন্দ্র জেল থেকে মুক্তি পান। তবে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় ফিরোজার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকার করে। পরিবারের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় কিছু সংগঠনের সহযোগিতায় বিয়ের আয়োজন করা হয়। কন্যাদান করেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জেলা সহ-সভাপতি রাজবাহাদুর মিশ্র। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও ধর্মেন্দ্র ও ফিরোজার অটল ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে। সমাজের রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি আর পেশাগত পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে এই জুটি এখন নতুন জীবন শুরু করেছেন।
এক ঝলকে
- ২০০৭ সালে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ধর্মেন্দ্র সিংয়ের সাথে জেলের সহকারী সুপার ফিরোজা খাতুনের পরিচয় হয়।
- দীর্ঘ ১৪ বছর কারাবাসের সময় জেলখানার ভেতরেই গড়ে ওঠে তাঁদের প্রেম।
- জেল থেকে মুক্তির চার বছর পর সামাজিক ও পারিবারিক বাধা পেরিয়ে গত ৫ মে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
- কনের পরিবার উপস্থিত না থাকলেও স্থানীয় সংগঠনের সহায়তায় এই ব্যতিক্রমী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
