কালীঘাটের বৈঠকে কড়া বার্তা মমতার, ঘর গোছাতে সিআইডি তদন্তের ওপর ভরসা তৃণমূলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সই জালিয়াতি এবং বিধায়কদের দলবদলের জল্পনার মাঝেই আজ, রবিবার কালীঘাটে দলের বিধায়কদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় দলের সদস্যদের সই জাল করার মতো নজিরবিহীন বিতর্ক এবং বেশ কয়েকজন বিধায়কের অন্য দলে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনে বর্তমানে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের ওপর হামলা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনরোষের মুখে পড়ার মতো ঘটনাপ্রবাহের জেরে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিধায়কদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ও দলবদলের জল্পনা
বর্তমানে শাসক শিবিরের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের জনপ্রতিনিধিদের একাংশের ভূমিকা। সৌজন্যের খাতিরে সম্প্রতি একাধিক তৃণমূল বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে দেখা করেছেন। এই সাক্ষাতের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে দলবদলের তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। ফলে আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ঠিক কতজন বিধায়ক সশরীরে উপস্থিত থাকছেন, তার ওপর কড়া নজর রাখছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মূলত দলের প্রতি আনুগত্য পরীক্ষা এবং কারা দল ছাড়তে পারেন, তা চিহ্নিত করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ।
সই-কাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও সিআইডি তদন্ত
বিধানসভায় দলের অবস্থান ও বিরোধী দলের মর্যাদা রক্ষা নিয়ে তৈরি হওয়া সংকটের মূল কারণ সই জালিয়াতি। দলের অনেক বিধায়কই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে তাঁদের অজান্তেই সই জাল করা হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতি করল, তা উদ্ঘাটন করতে ইতিমধ্যেই সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে। আজকের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সই-কাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বার্তা দিতে পারেন। এর মাধ্যমে দলের অন্দরে থাকা অন্তর্ঘাতকদের চিহ্নিত করাই মূল লক্ষ্য।
কর্মী ক্ষোভ ও সাংগঠনিক প্রভাব
জেলায় জেলায় তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা, পার্টি অফিস ভাঙচুর এবং সম্পত্তি দখলের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে দলনেত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, নেতাদের ঘরে বসে না থেকে অত্যাচারিত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে তৃণমূল আগামী দিনে জেলায় জেলায় কর্মীদের ঘরে ফেরানো এবং জনরোষ মোকাবিলা করার জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণ করতে চাইছে। এই বৈঠকের প্রভাব আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক ঐক্য এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
