‘কালো ব্যাগে সাড়ে ৩ কোটি’! রাজসাক্ষী হতে চেয়ে CBI-কে বিস্ফোরক চিঠি পার্থ-ঘনিষ্ঠ সন্তুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 21, 20269:51 am
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। এবার এই মামলার তদন্তে নতুন নাটকীয় মোড় এনে রাজসাক্ষী হতে চেয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CBI)-র কাছে আবেদন জানালেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়। বর্তমানে জামিনে থাকা সন্তু শুধু সিবিআই-কেই চিঠি দেননি, বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। সিবিআই-কে দেওয়া চিঠিতে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা তোলা থেকে শুরু করে, সেই টাকা কোথায় এবং কার কার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল—তার এক চাঞ্চল্যকর বিবরণ দিয়েছেন তিনি।
সন্তুর বয়ানে ৫ কোটির টাকার হিসেব ও ‘কালো ব্যাগ’ সন্তুর দাবি অনুযায়ী, এজেন্টদের মাধ্যমে প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করা হতো। সেই টাকা তিনি সরাসরি কুন্তল ঘোষের হাতে তুলে দিতেন। এরপর কুন্তল ঘোষ সেই টাকা সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র उर्फ ‘কালীঘাটের কাকু’র বেহালার বাড়ি এবং নিউ আলিপুরের ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অফিসে নিয়ে যেতেন।
সন্তুর চিঠি থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে নিউ আলিপুরের ওই অফিসে তাঁদের মোট ৫ কোটি টাকা জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে তাঁরা পুরো টাকা একবারে জোগাড় করতে পারেননি। সন্তু নিজে ২২ লক্ষ টাকা এবং কুন্তল ঘোষ ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা—অর্থাৎ মোট সাড়ে ৩ কোটি টাকা তুলতে পেরেছিলেন। সন্তুর দাবি, দুটি কালো ব্যাগে ভরে এই সাড়ে ৩ কোটি টাকা তিনি ও কুন্তল ঘোষ ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অফিসে গিয়ে জমা দিয়েছিলেন।
‘সাহেব ক্ষুব্ধ হবেন’—হুমকির অভিযোগ পুরো ৫ কোটি টাকা একবারে না মেলায় বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। সন্তুর দাবি, সুজয়কৃষ্ণ তাঁদের স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে পুরো টাকা না পেলে তাঁর ‘সাহেব’ বিষয়টিতে অত্যন্ত রেগে যাবেন। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, টাকা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসেন। সুজয়কৃষ্ণ পরে তাঁদের জানান, সাড়ে ৩ কোটি টাকার কথা শুনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তুষ্ট হয়েছেন। একইসঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি দেড় কোটি টাকা না দেওয়া হলে প্রার্থীদের নিয়োগপত্র আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও বিস্ফোরক দাবি সন্তুর।
সন্তুর সাফ বক্তব্য, তিনি যদি মুখ খোলেন তবে তৎকালীন শাসকদল ও সরকারের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি চরম বিপাকে পড়বেন। তবে সিবিআই-কে দেওয়া চিঠিতে করা এই অভিযোগগুলোর সত্যতা বর্তমানে তদন্তাধীন।
গ্রেফতারি, জামিন ও পার্থর প্রতিক্রিয়া উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে সাব-এজেন্ট হিসেবে নাম উঠে আসার পর ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। দীর্ঘ দিন জেল হেফাজতে থাকার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর হাই কোর্টের নির্দেশে ৫ লক্ষ টাকার বন্ডে জামিন পান তিনি।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পরই রাজসাক্ষী হওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেন সন্তু। অন্যদিকে, সন্তুর এই অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানিয়েছেন, “সন্তু আমার বিধানসভা এলাকাতেই থাকত। তবে ও যা দাবি করছে, সেই সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা উচিত।”
