কাশ্মীর-মণিপুর ছেড়ে নজর কি বাংলায়? ১৪০ জন ভোটার পিছু একজন জওয়ান, নজিরবিহীন নিরাপত্তায় কাঁপছে ভোটবাজার

কাশ্মীর-মণিপুর ছেড়ে নজর কি বাংলায়? ১৪০ জন ভোটার পিছু একজন জওয়ান, নজিরবিহীন নিরাপত্তায় কাঁপছে ভোটবাজার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক নজিরবিহীন বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এই উপস্থিতিকে ‘সামরিক কায়দায় ক্ষমতা দখল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে কোনো নির্বাচনী রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর এত বড় মাপের প্রস্তুতি বৈঠক সচরাচর দেখা যায়নি।

নিরাপত্তা বনাম মনস্তাত্ত্বিক চাপ

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করেছেন যে, কাশ্মীর বা মণিপুরের মতো অশান্ত এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক বাহিনী সরিয়ে এনে বাংলায় মোতায়েন করা হচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শাসক দলের অভিযোগ, প্রতি ১৪০ জন ভোটারের বিপরীতে একজন করে জওয়ান মোতায়েন করার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা। যদিও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নজিরবিহীন বাহিনী মোতায়েন

পরিসংখ্যান বলছে, এবারের নির্বাচনে বাংলায় প্রায় ২.৪ লক্ষ সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। বিগত নির্বাচনে ৮৪৫ কো ম্পা নি বাহিনী থাকলেও এবার তা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজ্যের নির্বাচনী হিংসার ইতিহাসকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই বিশাল বাহিনীর উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সুরক্ষা দেবে নাকি তাদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

এক ঝলকে

প্রতি ১৪০ জন ভোটারের জন্য একজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য থাকার বিষয়টি নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন।

কলকাতায় সিআরপিএফসহ পাঁচটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নজিরবিহীন বৈঠক অনুষ্ঠিত।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই বিপুল বাহিনীর উপস্থিতি আদতে ‘সামরিক কায়দায়’ বাংলা দখলের চেষ্টা।

এবার বাংলায় ২.৪ লক্ষ জওয়ান মোতায়েন করা হচ্ছে, যা গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *