কিম জং উন নিহত হলেই অটোমেটিক পরমাণু হামলা! উত্তর কোরিয়ার সংবিধানে বিধ্বংসী বদল – এবেলা

কিম জং উন নিহত হলেই অটোমেটিক পরমাণু হামলা! উত্তর কোরিয়ার সংবিধানে বিধ্বংসী বদল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন ও চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পিয়ংইয়ং। দেশটির সংশোধিত সংবিধানে এমন একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে কিম জং উনকে হত্যার কোনো চেষ্টা করা হলে বা তার জীবনের ওপর হুমকি দেখা দিলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক হামলা শুরু করবে। গত ২২ মার্চ এই সাংবিধানিক পরিবর্তন করা হলেও সম্প্রতি তা জনসমক্ষে আনা হয়েছে। মূলত বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করতেই এই আত্মঘাতী প্রতিরক্ষা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও স্বয়ংক্রিয় পাল্টা আঘাত

উত্তর কোরিয়ার সংবিধানের পরমাণু নীতি বিষয়ক ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো শত্রু দেশ যদি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ চালায় বা সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ক্ষতির চেষ্টা করে, তবে কোনো বিশেষ আদেশের অপেক্ষা না করেই পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কিম জং উন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এই নতুন আইনের মাধ্যমে তিনি মূলত বিশ্বশক্তিগুলোকে এই বার্তাই দিলেন যে, তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সীমান্তে রণপ্রস্তুতি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ

সাংবিধানিক পরিবর্তনের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া তাদের দক্ষিণ সীমান্তে নতুন ও শক্তিশালী কামান ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল এখন সরাসরি উত্তর কোরিয়ার ফায়ারিং রেঞ্জের ভেতরে চলে এসেছে। কিম জং উন সম্প্রতি ১৫৫ মিমি ক্ষমতার একটি স্বয়ংক্রিয় তোপ ব্যবস্থার উৎপাদন কাজ পরিদর্শন করেছেন, যার লক্ষ্য সামরিকভাবে নিজেদের কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করা।

প্রভাব ও আঞ্চলিক অস্থিরতা

উত্তর কোরিয়ার এই কঠোর অবস্থান কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত করেছে। দেশটি ইতিমধ্যে তাদের সংবিধান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে একত্রীকরণের ধারণাটি মুছে ফেলেছে এবং সিউলকে তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার হাতে প্রায় ৫০টি সক্রিয় পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নতুন আইন প্রয়োগের ফলে কিম জং উনের ওপর যেকোনো ধরনের মার্কিন বা দক্ষিণ কোরীয় অভিযান এখন বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই পদক্ষেপটি মূলত বহিরাগত আক্রমণ প্রতিহত করার একটি মনস্তাত্ত্বিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *