কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, তারপর কাঁচা চিবিয়ে খেলেন মস্তিষ্ক ও চোখ! ৬০ বছর পর মুক্ত হল সেই নরখাদক – এবেলা

কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, তারপর কাঁচা চিবিয়ে খেলেন মস্তিষ্ক ও চোখ! ৬০ বছর পর মুক্ত হল সেই নরখাদক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আমেরিকার কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের অপরাধ ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায় ছিল ২০১১ সালের সেই হত্যাকাণ্ড। একজন গৃহহীন মানুষকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পর তার মগজ ও চোখ কাঁচা চিবিয়ে খাওয়ার ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। ‘কানেকটিকাট ক্যানিবাল’ বা নরভক্ষক হিসেবে পরিচিত সেই টায়রি স্মিথ দীর্ঘ চিকিৎসা ও বন্দিদশা শেষে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন। এই মুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

যেভাবে ঘটেছিল সেই শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড

২০১১ সালে ব্রিজপোর্ট শহরের বাসিন্দা টায়রি স্মিথ অত্যন্ত নৃশংসভাবে অ্যাঞ্জেল গঞ্জালেজ নামক এক গৃহহীন ব্যক্তিকে হত্যা করেন। ঘটনার প্রেক্ষাপট ছিল কোনো ভৌতিক সিনেমার চেয়েও ভয়ঙ্কর। হত্যাকাণ্ডের একদিন আগে স্মিথ তার আত্মীয় নিকোল র‍্যাবের বাড়িতে গিয়ে রক্ত নিয়ে খেলার এবং গ্রিক দেবতাদের নিয়ে অসংলগ্ন কথা বলেন। পরের দিন তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরে এসে দাবি করেন যে, তিনি একজনকে কুড়াল দিয়ে মেরে তার মগজ ও চোখ খেয়েছেন। স্মিথ তখন জানিয়েছিলেন, মানুষের চোখের স্বাদ তার কাছে সামুদ্রিক ‘অয়েস্টার’ বা সিপের মতো লেগেছে। পরবর্তীতে পুলিশ গঞ্জালেজের পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্মিথকে একটি কবরস্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও আইনি পর্যবেক্ষণ

২০১৩ সালে আদালত রায় দেয় যে, অপরাধ করার সময় স্মিথ ‘স্কিজোফ্রেনিয়া’ নামক গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে সরাসরি দোষী সাব্যস্ত না করে চিকিৎসার জন্য ৬০ বছরের জন্য হোয়াইটিং ফরেনসিক হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘকালীন পর্যবেক্ষণ ও ওষুধের প্রভাবে বর্তমানে তার মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফরেনসিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মিথ এখন শান্ত এবং তিনি হাসপাতালে অন্যদের সাহায্যও করতেন।

মুক্তি এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন

২০২৫ সালের শুরুর দিকে সাইকিয়াট্রিক সিকিউরিটি রিভিউ বোর্ড স্মিথকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে তিনি কঠোর নজরদারি, নিয়মিত থেরাপি এবং ওষুধের অধীনে লোকালয়ে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। তবে এই মুক্তি নিয়ে বিতর্ক থামছে না। হাসপাতালের নথিপত্র অনুযায়ী, বন্দি থাকাকালীন সময়েও স্মিথ কয়েকবার অন্য বন্দিদের সঙ্গে সহিংসতায় জড়িয়েছিলেন, যার ফলে তাকে নির্জন কারাবাসেও রাখা হয়েছিল।

ভুক্তভোগী অ্যাঞ্জেল গঞ্জালেজের পরিবার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গঞ্জালেজের ভ্রাতৃবধূ তলিথা ফ্রেজিয়ার জানান, যে ব্যক্তি বন্দি অবস্থায় সহিংস আচরণ করতে পারে, সে সমাজের জন্য এখনো বড় হুমকি। যদিও মুক্তির আগে স্মিথ তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক কাটেনি।

এক ঝলকে

  • ঘটনার সময়: ২০১১ সালে কানেকটিকাটের ব্রিজপোর্ট শহরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
  • অপরাধের ধরণ: কুড়াল দিয়ে হত্যার পর মগজ ও চোখ ভক্ষণ।
  • আদালতের রায়: মানসিক রোগের কারণে অপরাধী সাব্যস্ত না করে ৬০ বছরের চিকিৎসা হেফাজত।
  • বর্তমান অবস্থা: ২০২৫ সালে শর্তসাপেক্ষে হাসপাতাল থেকে মুক্তি এবং লোকালয়ে ফেরা।
  • উদ্বেগ: বন্দি জীবনে সহিংসতার ইতিহাস থাকায় স্মিথের মুক্তি নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিতর্ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *