কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা, ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বৈদিক ভারতের ইতিহাস ও রাষ্ট্রবাদের পাঠ দিলেন শমীক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, আইসিএসই, আইএসসি, সিবিএসই এবং মাদ্রাসা পরীক্ষার কৃতী ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ সংবর্ধনা দিল নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই রাজকীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।
মেধার স্বীকৃতি ও বৈদিক ভারতের গৌরবগাথা
অনুষ্ঠানে কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মনে জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাচীন ভারতের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত একসময় গোটা পৃথিবীকে শিক্ষার আলো দেখিয়েছে। ব্যাকরণবিদ পাণিনি ও কবি কালিদাসের মতো বৈদিক যুগের মহারথীদের অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ব্যাকরণ, বাইনোকুলাস ক্যালকুলাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যামিতি ও ত্রিকোণমিতির মতো জটিল বিষয়ের জন্ম ও বিকাশ এই ভারতেই হয়েছিল। এমনকি হাজার বছর আগে মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট গ্রামে ইস্পাত তৈরির প্রাথমিক প্রক্রিয়া ‘ওপেন-হার্ট প্রসেস’ শুরু হয়েছিল এবং দক্ষিণ ভারতের মন্দিরের পাথরের গায়ে ইংল্যান্ডের বহু আগে আবিষ্কৃত ‘রিডাকশন গিয়ার’-এর চিত্র খোদাই করা ছিল।
বাঙালি সত্তা ও বিশ্বমঞ্চে ভারতের স্থান
শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের শিকড়কে জানার আহ্বান জানান শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন, রাজ্যের বাঙালিদের প্রথম পরিচয় তাঁরা ভারতীয়, তারপর তাঁরা বাঙালি। রাজনৈতিক ক্ষমতা বা সরকারের পরিবর্তন হলেও ভারতের বহুত্ববাদ চিরকাল অক্ষুণ্ন থাকবে। প্রাচীন ভারতে বিবাহ পদ্ধতির মতো সামাজিক কাঠামোর সূচনার কথা উল্লেখ করে তিনি মেধার বিকাশকে দেশের কাজে লাগানোর বার্তা দেন। একই সঙ্গে দেশের কৃতী সন্তানদের আগামী দিনে দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ভারতকে বিশ্বমঞ্চে সর্বশ্রেষ্ঠ আসনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয় এই অনুষ্ঠান থেকে।
