কোচিং ছাড়াই ইউপিএসসি জয়, রূপকথাকেও হার মানাবে এই অগ্নিকন্যার সংগ্রামকাহিনী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) পরিচালিত সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষাকে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী দেশের এই মর্যাদাপূর্ণ প্রশাসনিক চাকরিতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পরীক্ষায় বসেন। তবে এই চেনা ছকের বাইরে হেঁটে এক অনন্য নজির গড়েছেন উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার মেয়ে বিদুষী সিং। কোনো নামী কোচিং সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথমবারেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ১৩তম র্যাঙ্ক অর্জন করেছেন তিনি।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, অনন্য র্যাঙ্ক অর্জন করা সত্ত্বেও সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মতো আইএএস (IAS) বা আইপিএস (IPS) পদের হাতছানি এড়িয়ে দেশের সেবা করার জন্য বিদুষী বেছে নিয়েছেন ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (IFS) তথা কূটনীতির আঙিনাকে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্বশিক্ষার জোরেই অভাবনীয় সাফল্য
আজকের দিনে যেখানে ইউপিএসসি সাফল্যের পেছনে লক্ষাধিক টাকার কোচিং ক্লাসের রমরমা ব্যবসা চলছে, সেখানে বিদুষী সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন। দিল্লির নামী শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্স (SRCC) থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হওয়া বিদুষী কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কোচিংয়ে ভর্তি না হয়ে ‘সেলফ স্টাডি’ বা স্বশিক্ষার ওপর জোর দেন। শুরুতে এনসিইআরটি (NCERT)-এর মৌলিক বই ও অন্যান্য সাধারণ পাঠ্যবই দিয়ে নিজের ভিত শক্ত করেন তিনি। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রেখে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০২২ সালের সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় মোট ১,০৩৯ নম্বর পেয়ে দেশজুড়ে ১৩তম স্থান ছিনিয়ে নেন তিনি, যার মধ্যে ইন্টারভিউতেই তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১৮৪।
সাফল্যের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিদুষী সিংয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল কারণ ছিল তাঁর নিয়মানুবর্তিতা, অর্থনীতির মতো কঠিন বিষয়ে গভীর দখল এবং নিজের মেধার প্রতি অটুট আত্মবিশ্বাস। মেইনস পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে তিনি কোনো কোচিং না নিলেও নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে একাধিক নামী টেস্ট সিরিজ এবং মক ইন্টারভিউয়ের সাহায্য নিয়েছিলেন, যা তাঁর ত্রুটিগুলো শুধরে নিতে সাহায্য করেছে।
এই সাফল্যের প্রভাব সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার্থীদের মানসিকতায় বড় ধরনের বদল আনবে। বিদুষীর এই রূপকথার মতো লড়াই প্রমাণ করে দিল যে, অর্থ ও দামি কোচিং সেন্টারের জাঁকজমক ছাড়াও সঠিক কৌশল ও একাগ্রতা থাকলে দেশের কঠিনতম পরীক্ষায় শীর্ষস্থান লাভ করা সম্ভব। এই ঘটনা দেশের হাজার হাজার মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবারের পরীক্ষার্থীদের কোচিংয়ের বিপুল খরচের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বনির্ভরভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
