কোটি টাকার গয়না থেকে লাক্সারি ঘড়ি, মোট কত সম্পত্তির মালিক সাংসদ কোয়েল মল্লিক? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টলিউডের প্রথম সারির বাণিজ্যিক অভিনেত্রী থেকে আচমকাই রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলেন কোয়েল মল্লিক। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তিনি বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শাসক শিবিরের আশানুরূপ ফল না হওয়ায় তারকা রাজনীতিকদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। এই জনাকীর্ণ রাজনৈতিক আবহে রাজ্যসভায় মনোনয়ন পেশের সময় দেওয়া হলফনামা থেকে প্রকাশ্যে এসেছে কোয়েল মল্লিকের বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান, যা স্বাভাবিকভাবেই ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে।
আয়ের উত্থান-পতন ও বৈভবের খতিয়ান
হলফনামা অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবর্ষে এই তারকা সাংসদের আয়ের গ্রাফে বেশ ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৯৯ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সর্বোচ্চ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ২৬ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকায়। তবে সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা কিছুটা কমে হয় ১ কোটি ৬৬ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা। বর্তমানে কোয়েলের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৯ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা এবং অস্থাবর সম্পত্তি ১৬ কোটি ৭০ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা। এই বিপুল অঙ্কের সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ২ কোটি ৬৫ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকার গয়না এবং ১৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ি। তবে কোটি টাকার মালিক হওয়া সত্ত্বেও হলফনামা অনুযায়ী কোয়েলের নামে নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই। এছাড়া তাঁর স্বামী নিসপালের নামে ৯৮ লক্ষ টাকার অকৃষিজমি ও যৌথ মালিকানায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। মূলত অভিনয়, ব্যবসা এবং ব্যাঙ্কের সুদই এই আয়ের প্রধান উৎস।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও জনমানসে সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর যখন রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে তারকা প্রার্থীদের ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, তখন এই বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ পাওয়া বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কোয়েলের এই হলফনামা একদিকে যেমন তাঁর দীর্ঘদিনের সফল অভিনয় জীবন ও ব্যবসায়িক সততার প্রতিফলন, অন্যদিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এটি জনমানসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে সফল তারকাদের রাজনীতিতে আসার পেছনে জনসেবার উদ্দেশ্য কতটা জোরালো, তা নিয়ে প্রায়শই প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচনী হারের পর সাধারণ মানুষের নজর এখন এই তারকা সাংসদের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সক্রিয়তার দিকে। ফলে এই বিপুল বৈভবের বিবরণী এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আগামী দিনে তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বজায় রাখতে কতখানি সহায়ক হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ।
