“কোন দলের প্রার্থী সেটা জেরা করার ওরা কারা?” কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর ফেটে পড়লেন কুণাল ঘোষ!

রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বেলেঘাটা কেন্দ্রের ব্রাহ্ম গার্লস হাইস্কুলের বুথে ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাধার মুখে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কুণাল ঘোষ। প্রার্থীর পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন আচরণে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ প্রার্থী।
বুথে প্রবেশ ঘিরে চরম উত্তেজনা
বিকেল ৩টে নাগাদ সংশ্লিষ্ট বুথে পৌঁছালে কুণাল ঘোষকে আটকায় কেন্দ্রীয় জওয়ানরা। অভিযোগ, তাঁর কাছে প্রার্থীর বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও জওয়ানরা জানতে চান তিনি কোন দলের হয়ে লড়ছেন। এই প্রশ্নেই মেজাজ হারান কুণাল। তাঁর সাফ কথা, প্রার্থীর প্রবেশপত্র পরীক্ষা করা বাহিনীর দায়িত্ব হতে পারে, কিন্তু প্রার্থী কোন দলের তা জিজ্ঞাসা করার অধিকার তাদের নেই। বাহিনীর এই অতিসক্রিয়তাকে নিয়মবহির্ভূত বলে দাবি করেছেন তিনি।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অব্যবস্থার অভিযোগ
ভোট দিয়ে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও একগুচ্ছ অভিযোগ আনেন। তাঁর মতে, কমিশনের অব্যবস্থার কারণেই বিভিন্ন জায়গায় ভোটদান প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মানুষ তৃণমূল নেত্রীর পাশেই আছেন এবং জোড়া ফুলেই আস্থা রাখছেন বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান।
ঘটনার প্রভাব ও তাৎপর্য
নির্বাচনের দিন বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে সাধারণ মানুষ বা প্রার্থীর হেনস্থার খবর বারবার সামনে আসছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাহিনীর এই জেরা করার প্রবণতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে পুরনো সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে দিল। বিরোধীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে না চাইলেও, তৃণমূল নেতৃত্ব একে ভোটারদের প্রভাবিত করার ও প্রার্থীদের হেনস্থা করার কৌশল হিসেবেই দেখছে।
এক ঝলকে
- বেলেঘাটার বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জেরার মুখে পড়তে হয় তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষকে।
- পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কোন দলের প্রার্থী, সেই প্রশ্ন তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ প্রার্থীর।
- কমিশনের অব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন বুথে ভোট গ্রহণের গতি শ্লথ হওয়ার অভিযোগ কুণালের।
- দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বাহিনীর ভূমিকা ও মানুষের হয়রানি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।
