কোমায় কাটল ৩ সপ্তাহ, মনে মনে ৭ বছরের সংসার! জেগে উঠেই তরুণী খুঁজলেন নিজের সন্তানদের – এবেলা

কোমায় কাটল ৩ সপ্তাহ, মনে মনে ৭ বছরের সংসার! জেগে উঠেই তরুণী খুঁজলেন নিজের সন্তানদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মানুষের মস্তিষ্ক মাঝেমধ্যে এমন কিছু জটিল জাল বুনে দেয়, যা বাস্তবের চেয়েও বেশি সত্য বলে মনে হয়। ফ্রান্সের ১৯ বছর বয়সী তরুণী ক্লেলিয়া ভর্দিয়ারের ক্ষেত্রেও তেমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। টানা তিন সপ্তাহ কোমায় থাকার পর যখন তিনি চোখ খোলেন, তখন চিকিৎসকদের কাছে সবার আগে নিজের তিন সন্তানের খোঁজ নেন। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, বাস্তবে সেই সন্তানদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

কোমায় কাটানো অবাস্তব এক জীবন

ফ্রান্সের লিওন শহরের বাসিন্দা ক্লেলিয়া ২০১৫ সালের জুন মাসে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে ‘মেডিকেল কোমা’-তে পাঠান। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর যখন তাঁর জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন যে তিনি তিনটি সন্তানের মা এবং গত ৭ বছর ধরে তিনি তাদের সাথেই সংসার করছেন। তিনি তাঁর সন্তানদের নামও জানান—মিলা, মাইলস এবং মেলি। এমনকি মেলি নামের সন্তানটি জন্মের কিছু দিন পর মারা যায় এবং সেই শোক ও অপরাধবোধও তিনি কোমায় থাকা অবস্থাতেই অনুভব করেছিলেন।

চিকিৎসকদের বিস্ময় ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

মেডিক্যাল সায়েন্সকে স্তব্ধ করে দিয়ে ক্লেলিয়া চিকিৎসকদের জানান, তিনি প্রসববেদনা থেকে শুরু করে সন্তানদের কোলে নেওয়ার অনুভূতি—সবই একদম বাস্তবে অনুভব করেছেন। তবে বাস্তবে ক্লেলিয়া কখনোই মা হননি। চিকিৎসকদের মতে, কোমায় থাকাকালীন তাঁর মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ নিজস্ব উপায়ে একটি অবাস্তব ও কাল্পনিক জীবন তৈরি করে নিয়েছিল, যা ক্লেলিয়ার অবচেতন মনে স্থায়ী রূপ নেয়। জ্ঞান ফেরার পর যখন তাঁকে জানানো হয় যে তাঁর কোনো সন্তান নেই এবং পুরো বিষয়টিই মস্তিষ্কের কল্পনা ছিল, তখন তিনি তীব্র মানসিক আঘাত পান। এই ঘটনার পর মানুষের মস্তিষ্কের অবচেতন স্তরের ক্ষমতা এবং কোমা থেকে ফিরে আসা রোগীদের মানসিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *