কোষাধ্যক্ষই নন অরূপ, চিঠি নিয়ে মুখ খুললেন কুণাল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলায় নবান্নের ক্ষমতা বদলের পর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এক নজিরবিহীন ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি এবার যুযুধান দুই শিবিরের মধ্যে মূল সংঘাত তৈরি হয়েছে দলের প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক তহবিলকে কেন্দ্র করে। এই বিপুল অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিধানসভায় তৈরি হওয়া নতুন ব্লক ও তাদের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। এই তহবিল ফ্রিজ হওয়া এবং দলের বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের একটি চিঠি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
টাকা সরানোর গোপন চাল ও পাল্টা আইনি হুঁশিয়ারি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঋতব্রত শিবির যাতে এই ৫৩৪ কোটি টাকার ওপর আইনি অধিকার কায়েম করতে না পারে, সেজন্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৎপর হন। তিনি তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসকে নির্দেশ দেন তহবিলটি সাময়িকভাবে অন্য একটি বন্ধু রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দিতে। কিন্তু কালীঘাটের এই গোপন পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায় এবং খবরটি দ্রুত পৌঁছে যায় নতুন ব্লকের নেতাদের কাছে। এর পরই ঋতব্রত শিবির পাল্টা চাল চেলে অরূপ বিশ্বাসকে কড়া বার্তা দেয়। আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে তাঁকে অবিলম্বে ব্যাঙ্কের সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখার অফিশিয়াল অনুরোধ জানাতে বাধ্য করা হয়। চাপের মুখে পড়ে অরূপ বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদের কথা জানান এবং প্রতীক ও কর্তৃত্ব চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন।
কোষাধ্যক্ষ পদে বদল এবং ভবিষ্যতের প্রভাব
এই চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়তেই যখন ৫৩৪ কোটি টাকা ফ্রিজ হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই দলের অবস্থান স্পষ্ট করে আসরে নামেন কুণাল ঘোষ। তিনি সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানান, অরূপ বিশ্বাস এখন আর দলের কোষাধ্যক্ষই নন। গত ৫ জুন দলের কার্যসমিতির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে সংবাদমাধ্যমে অরূপ বিশ্বাসের চিঠি নিয়ে যে প্রচার চলছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।
এই ঘটনার কারণে দলের অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তহবিল রক্ষা করতে কোষাধ্যক্ষ পদে এই আকস্মিক বদল প্রমাণ করে যে, দলের প্রতীক ও আইনি অধিকারের লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। নতুন কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের মাধ্যমে মূল শিবির আর্থিক তহবিলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও, দুই শিবিরের এই সংঘাত তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
