ক্রিকেটের সম্মান রক্ষায় মরিয়া বিসিসিআই, আইপিএলে শৃঙ্খলাভঙ্গে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি আইপিএলে ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের একের পর এক শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সাজঘরে রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক রিয়ান পরাগের ধূমপান, ডাগআউটে ম্যানেজারের মোবাইল ব্যবহার কিংবা ম্যাচ শেষে পঞ্জাব কিংসের পেসার অর্শদীপ সিংহের সমাজমাধ্যমে রিল বানানো— সব মিলিয়ে মাঠ এবং মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের আচরণ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতার মাঝপথেই ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য আট পাতার এক কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে বোর্ড। ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় ও খেলার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়মের বেড়াজাল আরও শক্ত করা হচ্ছে।
নিয়ম ভাঙলে কড়া শাস্তি, স্পষ্ট বার্তা আইপিএল চেয়ারম্যানের
বার বার নিয়ম ভাঙার এই প্রবণতা নিয়ে মুখ খুলেছেন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধূমল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্রিকেটের সম্মানহানি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যে পরাগ ও ভিন্দারকে জরিমানা এবং অর্শদীপকে সতর্ক করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমের অতি-ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ধূমল একে ‘সবচেয়ে অসামাজিক’ বলে আখ্যা দেন। তবে তিনি যোগ করেন, এই নিয়মগুলো ক্রিকেটারদের ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং তাদের ভালর জন্যই করা হয়েছে। কারণ আইপিএলের ভাবমূর্তি নষ্ট হলে তার নেতিবাচক প্রভাব ভারতীয় ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ওপরও পড়বে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিসিসিআইয়ের নতুন নির্দেশিকা
বোর্ডের নতুন গাইডলাইনে পিএমওএ (প্লেয়ার্স অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়ালস অ্যাকসেস) প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হানি ট্র্যাপিং, যৌন হেনস্থা এবং জুয়াড়িদের হাত থেকে ক্রিকেটারদের সুরক্ষিত রাখতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া হোটেলের ঘরে কোনো বাইরের লোক প্রবেশ করতে পারবেন না। অতিথিদের সঙ্গে কেবল হোটেলের লবিতে দেখা করা যাবে। এছাড়া ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং মাঠ, সাজঘর ও টিম হোটেলে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হোটেল থেকে বাইরে যাওয়ার আগেও সিকিউরিটি অফিসার বা টিম ম্যানেজারকে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ওপর চাপ
বোর্ডের এই কঠোর অবস্থানের ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ওপর শৃঙ্খলা বজায় রাখার চাপ বহুগুণ বেড়ে গেল। নির্দেশিকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি দলকে ক্রিকেটার ও কর্মীদের নিয়ে বাধ্যতামূলক ব্রিফিং করতে হবে এবং নিয়ম মানার লিখিত প্রতিশ্রুতি নিতে হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে শুধু বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে টুর্নামেন্ট থেকে বরখাস্ত বা বহিষ্কারের মতো চরম পদক্ষেপও নিতে পারে বিসিসিআই। এর ফলে আগামী দিনে ক্রিকেটারদের মাঠ ও মাঠের বাইরের স্বাধীনতায় যেমন রাশ পড়বে, তেমনই ক্রিকেটের বিশুদ্ধতা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
