ক্ষমতায় এসেই কড়া বার্তা! তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই বিজেপি নেতা – এবেলা

ক্ষমতায় এসেই কড়া বার্তা! তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই বিজেপি নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল নতুন সরকার। সেই প্রতিশ্রুতিরই এবার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল। মারধর, তোলাবাজি এবং খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে রাজ্যের দুই প্রান্ত থেকে তড়িৎ গতিতে গ্রেপ্তার হলেন দুই দাপুটে বিজেপি নেতা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন, দলের কোনও নেতা বা বিধায়ক দুর্নীতিতে জড়ালে তাকে রেয়াত করা হবে না এবং দলে কোনওভাবেই ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেওয়া হবে না।

মারধর ও তোলাবাজির অভিযোগে জোড়া গ্রেপ্তারি

পুলিশ সূত্রে খবর, আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির ওবিসি সেলের সহ-সভাপতি শুভজিৎ ঘোষকে গোঘাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে তালা লাগানো, মারধর এবং তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শুভজিৎ অবশ্য এই ঘটনাকে তৃণমূলের মিথ্যা অভিযোগ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিজেপি নেতা চিরঞ্জিৎ হালদার। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় ভেড়ি দখল, তোলাবাজি, হুমকি ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সোমবার এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করেছে পুলিশ।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ক্ষমতায় আসার পর শাসকদলের একাংশের মধ্যে যাতে কোনওভাবেই উচ্ছৃঙ্খলতা বা ক্ষমতার অপব্যবহার জায়গা করতে না পারে, মূলত সেই কারণ থেকেই প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি বা অভিযোগ না নেওয়ার প্রবণতা ছিল, সেই ধারণা ভাঙতেই এই তড়িৎ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে মনে করা হচ্ছে, দলের নিচুতলার কর্মীদের কাছে একটি অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট বার্তা পৌঁছল যে, অপরাধমূলক কাজে যুক্ত থাকলে দল কাউকেই আইনি রক্ষাকবচ দেবে না। অপরাধের বিচার আদালতই করবে— এই নীতি গ্রহণের ফলে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে শাসকদলের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *