ক্ষমতায় থাকলে যা খুশি করা যায় না, নাগরিক হেনস্থা বন্ধ হোক! নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভর্ৎসনা হাই কোর্টের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নির্বাচন কমিশনের বাইক সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ নিয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। ভোটের আগে নাগরিকদের গতিবিধিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মন্তব্য করেছেন যে, ক্ষমতা থাকলেই যা খুশি করা যায় না। আদালতের মতে, এই ধরণের বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষের জন্য চরম হেনস্থার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কমিশনের এই পদক্ষেপকে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা বলেও উল্লেখ করেছে আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্ন
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন যে, গোলমালের আশঙ্কায় যদি বাইক বন্ধ করা হয়, তবে গাড়ি কেন নয়? কারণ গাড়িতে করেও দুষ্কৃতীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অশান্তি ছড়াতে পারে। গত পাঁচ বছরে বাইকবাহিনীর গোলমালের সঠিক পরিসংখ্যান ও নজিরও দেখতে চেয়েছে আদালত। নাগরিক অধিকার এভাবে স্তব্ধ করে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে কমিশনের কাছে হলফনামা তলব করা হয়েছে। শুক্রবারই কমিশনকে এই বিষয়ে আদালতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
বিধিনিষেধের প্রভাব ও বাস্তবতা
কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ভোটের দু’দিন আগে থেকে নির্দিষ্ট সময়ে বাইকের পিছনে কোনো আরোহী বসতে পারবেন না। যদিও চিকিৎসা, স্কুল বা জরুরি প্রয়োজনে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার লিখিত অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সাধারণ ভোটার ও যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আগামীকালের হলফনামায় কমিশন বাইক সংক্রান্ত অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে পারে বলে জানা গেছে। তবে আদালতের কড়া মনোভাবের পর এই বিধিনিষেধ শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে নাকি তাতে কোনো শিথিলতা আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত যদি বজায় থাকে, তবে ভোটের দিনগুলোতে সাধারণ যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- বাইকের বিধিনিষেধ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট।
- ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগরিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণে জানান বিচারপতি।
- কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে শুক্রবার কমিশনকে হলফনামা জমা দিতে হবে।
- গত পাঁচ বছরে বাইকবাহিনীর গোলমালের পরিসংখ্যান ও প্রমাণের তথ্য চাইল আদালত।
