‘ক্ষমতায় না ফিরলেও উল্লেখযোগ্য আসন নিয়ে ফিরবে বামেরা’, গণনার আগে মানসী সিনহার ভবিষ্যদ্বাণীতে নতুন সমীকরণ

‘ক্ষমতায় না ফিরলেও উল্লেখযোগ্য আসন নিয়ে ফিরবে বামেরা’, গণনার আগে মানসী সিনহার ভবিষ্যদ্বাণীতে নতুন সমীকরণ

আগামীকাল ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল। রাজ্যের রাজনৈতিক আকাশে যখন তৃণমূল-বিজেপি দ্বিমুখী লড়াইয়ের মেঘ ঘনঘটা তৈরি করেছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বামেদের নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর এবং ইতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী করলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী তথা পরিচালক মানসী সিনহা। তাঁর মতে, ২০২৬-এর এই নির্বাচন বামেদের জন্য কেবল একটি ভোটযুদ্ধ নয়, বরং এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই থেকে ‘প্রত্যাবর্তনের’ পথে এক বিশাল পদক্ষেপ হতে চলেছে।

বামেদের পুনরুত্থান: প্রত্যাশা বনাম প্রাপ্তি

মানসী সিনহা মনে করেন, এই মুহূর্তে বামেরা হয়তো সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাধিক্য অর্জন করতে পারবে না, কিন্তু বিধানসভায় তাদের উপস্থিতি হবে অত্যন্ত শক্তিশালী। বিগত কয়েক বছরের নির্বাচনী বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক ধাক্কা সামলে বাম শিবির যে এবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেতে পারে, সেই বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশ মনে করছে, যদি মানসীর এই অনুমান সত্যি হয়, তবে বাংলার গত দেড় দশকের চেনা রাজনৈতিক মেরুকরণ বা ‘বাইনারি’ ভেঙে ফের ত্রিমুখী লড়াইয়ের আবহ তৈরি হবে।

কেন এই প্রত্যাবর্তনের সুর?

মানসীর এই মন্তব্যের নেপথ্যে বেশ কিছু গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা:

  • তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব: গত কয়েক বছরে ডিওয়াইএফআই (DYFI) বা এসএফআই (SFI)-এর মতো ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোর আন্দোলন এবং তাদের নতুন মুখদের নির্বাচনী ময়দানে নামিয়ে আনা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
  • মাঠের রাজনীতিতে ফেরা: ইনসাফ যাত্রা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণআন্দোলনে বামেদের ধারাবাহিক উপস্থিতি তাদের হারানো জনভিত্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করেছে বলে মানসী মনে করেন।
  • বিকল্পের সন্ধান: তৃণমূল এবং বিজেপি—উভয় শিবিরের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ভোটারদের একটি অংশ ফের বামেদের দিকে ঝুঁকেছে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। মানসীর মতে, এই ‘সাইলেন্ট ভোটাররাই’ বামেদের পালের হাওয়া হতে চলেছেন।

সাংস্কৃতিক জগতের ভাবনা ও বাস্তবের সংঘাত

বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে মানসী সিনহা বরাবরই তাঁর স্পষ্টভাষী এবং সংবেদনশীল অভিনয়ের জন্য পরিচিত। তিনি যখন রাজনৈতিক পূর্বাভাস দেন, তখন তা সাধারণ মানুষের মধ্যে এক বিশেষ গুরুত্ব পায়। শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের একটি বড় অংশ ২০২১-এর নির্বাচনে বামেদের ‘শূন্য’ হয়ে যাওয়াকে ভালো চোখে দেখেননি। তাই মানসীর এই বক্তব্য আদতে সেই সব মানুষেরই মনের প্রতিধ্বনি যারা মনে করেন শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ ছাড়া গণতন্ত্র আসাম্পূর্ণ।

৪ মে-র অগ্নিপরীক্ষা

মানসী সিনহার এই অনুমান কি নিছকই আবেগ, নাকি এর পেছনে কোনও গাণিতিক সত্য লুকিয়ে আছে, তার উত্তর দেবে আগামীকালকের ইভিএম। যদি বামেরা সত্যিই সম্মানজনক আসন সংখ্যা নিয়ে বিধানসভায় ফিরতে পারে, তবে তা কেবল তাদের দলের জন্য নয়, বরং বাংলার সামগ্রিক রাজনৈতিক মানচিত্রেই এক ঐতিহাসিক মোড় হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১০-১৫ শতাংশ ভোটব্যাঙ্ক যদি বামেরা পুনরুদ্ধার করতে পারে, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে তৃণমূল এবং বিজেপি—উভয় শিবিরের আসন সংখ্যার ওপরেই।

এখন গোটা রাজ্যের নজর ৪ মে-র সকালের দিকে। গণনার প্রতিটি রাউন্ডে মানসীর এই ভবিষ্যদ্বাণী কতটা সফল হয় এবং বামেদের ‘লাল বসন্ত’ সত্যিই ফিরে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *