ক্ষুদিরামের স্মরণ অনুষ্ঠানে ক্ষোভের আগুন! কেশপুরে নাম ঘোষণা হতেই ‘গো ব্যাক’ শিউলি সাহা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কেশপুর: বিপ্লবী শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে কেশপুরের মোহবনিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি’ অনুষ্ঠানে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ল তীব্র উত্তেজনা। এলাকার কাজ না করার অভিযোগে কেশপুরের বিজেপি বিধায়ক শিউলি সাহার নাম মঞ্চ থেকে ঘোষণা হতেই দর্শকাসন থেকে ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই মোহবনিতে ক্ষুদিরাম বসুর স্মরণ অনুষ্ঠান দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান চলাকালীন ঘোষক যখন বিধায়ক শিউলি সাহার নাম আহ্বান করেন, তখনই আমজনতার একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ‘গো ব্যাক, গো ব্যাক’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। সূত্রের খবর, বিক্ষোভের সময় শিউলি সাহা মঞ্চের নিচে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং মুখ্যমন্ত্রীর পৌঁছানোর আগেই তিনি এলাকা ত্যাগ করেন। এই ঘটনা নিয়ে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, এই সরকারি অনুষ্ঠান থেকেই শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটে সংস্কার নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান:
- মোহবনিতে ক্ষুদিরাম বসুর বাসভবনে গড়ে তোলা হবে একটি অত্যাধুনিক সংগ্রহশালা ও গ্যালারি।
- দর্শনার্থীদের আকর্ষণে থাকবে লেজার শো-এর বিশেষ ব্যবস্থা।
- স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর গবেষকদের সুবিধার জন্য তৈরি হবে থাকার ব্যবস্থা।
- এই সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য মোহবনি উন্নয়ন বোর্ডকে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
একদিকে একজন জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, আর অন্যদিকে ঐতিহাসিক ভিটে সংস্কারের এই বড় ঘোষণা—সব মিলিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে কেশপুরকে কেন্দ্র করে।
