খাবারে পিন বা স্টেপলারের টুকরো? ফুড সেফটি অথরিটির (FSSAI) জরুরি সতর্কতা জারি! – এবেলা

খাবারে পিন বা স্টেপলারের টুকরো? ফুড সেফটি অথরিটির (FSSAI) জরুরি সতর্কতা জারি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: হোটেল, রেস্তোরাঁ বা মিষ্টির দোকান থেকে কেনা খাবারের প্যাকেটে কি প্রায়ই স্টেপলারের পিন দেখতে পান? সাবধান! এই ছোট অবহেলাই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। এবার সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও নিয়ামক সংস্থা (FSSAI)। খাবার প্যাকিং বা পার্সেল সিল করার জন্য মেটালিক পিন (স্টেপলার পিন), তার বা এই জাতীয় জিনিসের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে এক জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র।

খাদ্য সুরক্ষা সংস্থার স্পষ্ট বার্তা, অসাবধানতাবশত এই ধাতব পিন পেটে চলে গেলে মানুষের শরীর এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। গ্রাহকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মেটালিক পিন নিয়ে কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

FSSAI-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেকের বাক্স, মিষ্টির প্যাকেট, স্ন্যাক্সের ঠোঙা এবং হোম ডেলিভারির পার্সেল সিল করার জন্য দেদার স্টেপলার ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কেক এবং বেকারি পণ্য সাজানোর কাজেও মেটালিক পিন ব্যবহার করার অভিযোগ এসেছে। এই ছোট ছোট পিনগুলো অনেক সময় খাবারের সাথে মিশে যায়, যা খালি চোখে সহজে ধরা পড়ে না। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মস্ত বড় হুমকি।

কেন এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক?

খাবারের প্যাকেটে থাকা এই ছোট ধাতব পিন বা তার যদি কেউ ভুলে গিলে ফেলেন, তবে মুখ, গলা বা পরিপাকতন্ত্র (খাদ্যনালী) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণসহ বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এই বিষয়টিকে ‘মারাত্মক খাদ্য সুরক্ষা ঝুঁকি’ (Serious Food Safety Hazard) হিসেবে দেখছে প্রশাসন।

বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ:

নতুন নিয়ম অনুযায়ী—বেকারি পণ্য, কেক, মিষ্টি, স্ন্যাক্স, হোম ডেলিভারির খাবার এবং যেকোনো ধরনের ফুড পার্সেল প্যাক করার জন্য মেটালিক পিন বা তারের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ, এমন বিকল্প পদ্ধতি (যেমন ফুড-গ্রেড আঠা বা সেফটি টেপ) ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অমান্য করলেই কঠোর শাস্তি:

FSSAI সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্দেশিকা অমান্য করলে ‘খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম ভাঙলে মোটা টাকা জরিমানা দেওয়ার পাশাপাশি আইনি খাঁড়াও নেমে আসতে পারে ব্যবসায়ীদের ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *